
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানা হেফাজতে থাকা জব্দ করা ৮টি ঘোড়া গোপনে বিক্রির অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে শেষ পর্যন্ত প্রশাসন ঘোড়াগুলো উদ্ধার করে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ মার্চ কালিয়াকৈরের খলিশাজানি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে জবাইয়ের প্রস্তুতিকালে ৯টি ঘোড়া উদ্ধার করে ফুলবাড়িয়া ফাঁড়ি পুলিশ। পরে সেগুলো থানার হেফাজতে রাখা হয়। এ সময় অসুস্থ হয়ে একটি ঘোড়া মারা যায়।
অভিযোগ ওঠে, অবশিষ্ট ৮টি ঘোড়া গত রোববার ভোরে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন গোপনে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। সোমবার সকালে থানায় ঘোড়া না দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ ঘোড়াগুলো পুনরায় থানায় ফিরিয়ে আনে। পরে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সোমবার দুপুরে প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হয়। নিলামে একাধিক ক্রেতা অংশ নেন এবং প্রতিযোগিতামূলক দর হাঁকার মাধ্যমে ৮টি ঘোড়া ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নিলাম সম্পন্ন হয়েছে। আগের ঘটনায় যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনের জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন দাবি করেন, ঘোড়াগুলো বিক্রি করা হয়নি; সাময়িকভাবে একজনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সেগুলো ফিরিয়ে এনে নিয়ম অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতে গোপনে কম দামে বিক্রির চেষ্টা না হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।