প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১০, ২০২৬, ৭:০৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৯, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
আশরাফুল ইসলাম (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) গভীর রাতে উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ফোরকান (৪০) পলাতক রয়েছেন।
নিহতরা হলেন,ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), বড় মেয়ে মীম খানম (১৪), মেজো মেয়ে উম্মে হাবিবা (৮), ছোট মেয়ে ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফোরকান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক। প্রায় এক বছর ধরে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন।
শনিবার (৯ মে) সকালে দীর্ঘ সময় ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয়রা ভেতরে প্রবেশ করে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশে খবর দিলে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পাঁচজনকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দীন বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাসে স্ত্রী শারমিনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন ফোরকান। এমন একটি অভিযোগের কপি তার ঘরে পাওয়া যায়।
অভিযুক্তরা হল, ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫),তার বাবা সাহাদাৎ মোল্লা(৬২),মাতা ফিরোজা বেগম(৫৮),তাহজত মোল্লা(৫৫), তার ছেলে মুছো মোল্লা(২৭), ইসরাফিল মোল্লা (২২),খবির মোল্লার ছেলে হাসিব মোল্লা (২৩),মোহাম্মদ ফকির (৬২),সাহাদৎ মোল্লার সন্তান মদিনা(১৮),আরোজ আলী মোল্লা(৪০),পলাশ মোল্লা(৩৮)।
থানায় দেয়া অভিযোগ সুত্রে জানাযায়,গত ১৬ বছর আগে গোপালগঞ্জ সদর থানার পাইককান্দি গ্রামের মো: সাহাদাৎ মোল্লার মেয়ের সাথে ফোরকানের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে।ফোরকান পেশায় একজন প্রাইভেট কার চালক।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে উপার্জিত প্রায় ১০ লাখ টাকা স্ত্রী ও শ্বশুরপক্ষ কৌশলে নিয়ে নিজেদের নামে জমি ক্রয় করেছেন। পাশাপাশি স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পেশাগত কারণে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকায় তার স্ত্রীর সঙ্গে রাজু নামে এক আত্মীয়ের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি ফোরকান তার মেয়ে উম্মে হাবিবার কাছ থেকে জানতে পারে। পরে এই বিষয় গুলি শ্বশুর কে জানালে গত ৫ মার্চ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে বলেও অভিযোগ করেন ফোরকান।
পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়াজনিত বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে।তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।