বিশেষ করে কাঁচাবাজার সংলগ্ন মহাসড়কের বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, পরিবহন চালক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (১৩ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, মাওনা চৌরাস্তার কাঁচাবাজারের সামনে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে ইট-পাথর। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চালকদের জন্য ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ব্যস্ত সময়ে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট দেখা যায়। এতে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে দুর্ভোগে পড়ছেন কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এই অংশ সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাঝে মধ্যে নামমাত্র সংস্কার করা হলেও কয়েকদিনের মধ্যেই আবার গর্ত তৈরি হয়। ফলে স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
সিএনজি অটোরিকশা চালক আব্দুল কাদের বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। গর্তের কারণে গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গাড়ির যন্ত্রাংশও দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।
বাস চালক কামাল হোসেন বলেন, মাওনা চৌরাস্তা অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকা। রাস্তার গর্তের কারণে হঠাৎ ব্রেক করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, পাশাপাশি যানজটও লেগেই থাকছে।
কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মো. হানিফ মিয়া বলেন, রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে বাজারে ক্রেতা কমে যাচ্ছে। যানজটের কারণে অনেকে বাজারে আসতেই চান না। এতে ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে।
শিক্ষার্থীরাও সড়কের বেহাল অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, প্রতিদিন কলেজে যেতে এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। যানজটের কারণে প্রায়ই দেরি হয়ে যায়।
স্কুল শিক্ষার্থী তাসনিয়া আক্তার বলে, রাস্তা পার হতে খুব ভয় লাগে। বড় গাড়িগুলো গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে, এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
আরেক শিক্ষার্থী সিয়াম মৃধা বলেন, বৃষ্টির সময় সমস্যা আরও বেড়ে যায়। গর্তে পানি জমে থাকায় কোথায় কত গভীর বোঝা যায় না। অনেক মোটরসাইকেল আরোহীকে দুর্ঘটনায় পড়তে দেখেছি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন বেহাল অবস্থা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত স্থায়ী সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, মাওনা চৌরাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।