শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় আলোচিত মাওনা চৌরাস্তার ‘লাইফ কেয়ার হাসপাতাল’ নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করায় ফের উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলার পরও প্রতিষ্ঠানটি “ডায়াগনস্টিক সেন্টার” পরিচয়ে রোগীসেবা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, আগামী ঈদের পর আবার অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ আড়াই মাস সিলগালা থাকার পর হাসপাতালটির মূল ফটক খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রধান সাইনবোর্ডের “লাইফ কেয়ার হাসপাতাল” নামের শেষ অংশ ঢেকে সেখানে “ডায়াগনস্টিক সেন্টার” লেখা নতুন ব্যানার টানানো হয়েছে। ভেতরে রোগীসেবা কার্যক্রমও চলতে দেখা যায়।
রিসিভশনে দায়িত্বরত এক ব্যক্তি সংবাদকর্মীদের জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার হিসেবে চালু রয়েছে। তবে ঈদের পর পুনরায় অপারেশন কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তার এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ উপজেলার উজিলাব গ্রামের মানিক মিয়ার স্ত্রী রুমা (২৫) সিজারিয়ান অপারেশনের পর মৃত্যুবরণ করেন। স্বজনদের অভিযোগ ছিল, ভুল চিকিৎসার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পরদিন উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযান চালিয়ে হাসপাতালটি সিলগালা করেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত রিপোর্ট হাসপাতালের বিপক্ষে এসেছে। অতীতে একাধিক অভিযোগ থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরায় হাসপাতাল হিসেবে চালুর কোনো সুযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালুর বিষয়েও তিনি কোনো নির্দেশনা দেননি।
তবে গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আবেদন করার পর শুধুমাত্র “ডায়াগনস্টিক সেন্টার” হিসেবে সীমিত কার্যক্রম পরিচালনার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতাল বা ওটি চালুর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনকে না জানিয়েই কীভাবে কার্যক্রম শুরু হলো এবং ওটি চালুর ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নে সিভিল সার্জন বলেন, বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানানোর কথা ছিল। তারা কেন তা করেনি, সেটি খতিয়ে দেখা হবে।
অভিযুক্ত হাসপাতাল পরিচালক মো. পারভেজ দাবি করেন, তিনি নিয়ম মেনেই প্রতিষ্ঠান চালু করেছেন এবং সিভিল সার্জনের অনুমোদনের পরই চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য প্রশাসনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটির পুনরায় কার্যক্রম চালানো নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নাম পরিবর্তন করে একই প্রতিষ্ঠান আগের মতোই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নিহত রুমার স্বজনরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও উৎসাহিত হচ্ছে।