প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১, ২০২৬, ২:০৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৩০, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে চোর সন্দেহে কারখানা শ্রমিককে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের উত্তর পেলাইদ এলাকায় চোর সন্দেহে এক যুবককে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
নির্যাতনের শিকার যুবকের নাম আসাদুজ্জামান (২৬)। তিনি উত্তর পেলাইদ গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে। অভিযোগে স্থানীয় সামসুল হক সরকার, দেলোয়ার হোসেন, ফয়সাল, কবির হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত( ২৫ মে) সকালে আসাদুজ্জামান প্রতিদিনের মতো স্থানীয় একটি কারখানায় কাজে যান। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলে সকাল ৮টার দিকে তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাকে উত্তর পেলাইদ এলাকার একটি মুদি দোকানের সামনে নিয়ে যান।
পরিবারের দাবি, সেখানে পৌঁছানোর পর কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই আসাদুজ্জামানকে চোর আখ্যা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় এবং চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়। এসময় অভিযুক্তরা লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আসাদুজ্জামানের দুই পায়ের হাঁটুর নিচে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এতে তার পায়ের হাড় ভেঙে যায় বলে পরিবারের দাবি।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, হামলাকারীরা আসাদুজ্জামানের সঙ্গে থাকা বেতন ও বোনাসের নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে অভিযুক্তরা তাকে পাশের একটি দোকানের সামনে ফেলে রেখে চলে যায়।
পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর বাবা আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে গিয়ে চোর অপবাদ দিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
ভুক্তভোগীর মা মোছা: ময়সান বলেন, সকালে কাজে যাওয়ার জন্য সুস্থ ছেলেকে ঘর থেকে বের হতে দেখেছি। কিছুক্ষণ পর খবর পাই, তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। আমার ছেলেকে কোনো অপরাধ প্রমাণ ছাড়াই ধরে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। যারা আমার ছেলের ওপর এই অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কাউকে চোর সন্দেহ হলেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। বিচারবহির্ভূত এমন নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী।এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফয়সাল ও সামছুল হক সরকার সহ আরো কয়েক জনের সাথে কথা বলেন তারা মারধরের বিষয়টা শিকার করে বলেন,গত রাতে কয়েক জনের বাড়িতে মটারের তার চুরি হয়েছে। রাতের বেলায় আসাদুজ্জামান কে অনেকেই ঘুরাঘুরি করতে দেখেছে।( ২৫ মে) সকালে এলাকার লোকজন তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এতে সে এলাকাবাসীর সাথে খারাপ আচরন করেছে।তখন এলাকাবাসী তাকে মারধর করেছে।তাকে যেহেতু চুরির সময় হাতে নাতে ধরতে পারেননি চুর হিসেবে প্রমান করতে পারেননি তাহলে আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন কেন? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তারা নিজেদের ভুল হয়েছে বলে শিকার করেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন আলম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Copyright © 2026 Protidiner Kontho. All rights reserved.