প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৩, ২০২৬, ১২:৫৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ

শ্রীপুর (গাজীপুর) সংবাদদাতা :গাজীপুরের শ্রীপুরের প্রাণকেন্দ্র মাওনা চৌরাস্তা কে বলা হলেও এখনো কিছু কিছু বিষয়ে মাওনা চৌরাস্তা অনেক খানি পিছিয়ে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশ দিয়ে ঘেঁষে যাওয়া তেলিহাটি মুলাইদ সড়ক।
এই সড়কের দুই পার্শ্বে অবস্থিত ব্যবসা বাণিজ্য স্থান চৌরাস্তা পুরাতন কাচা বাজার। রাস্তার দক্ষিণ পাশে রয়েছে মাওনা চৌরাস্তার সবচেয়ে বড় দুটি শপিং মল ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ার ও কিতাব আলী প্লাজা।
বাজার থেকে দুই পাশ দিয়ে মেইন রোড পর্যন্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা একে বারে নাজেহাল হয়ে পড়ে আছে। একটু খানি বৃষ্টি হলে যেন ভেসে যায় জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুইপাশ। বৃষ্টির পানিতে ড্রেনের ময়লা আবর্জনা উঠে গিয়ে পরিবেশ দূষিত হয়। এতে করে মানুষ চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।পথচারীরা ময়লা পানিতে হাটা চলার পর শরীরের বিভিন্ন অংশে রোগে আক্রান্ত হয়। এই মাওনা চৌরাস্তা শ্রীপুর প্রাণকেন্দ্র হলেও কাজে তার প্রমাণ করে না।
এই বাজারে নির্দিষ্ট কোন ময়লা আবর্জনা রাখার স্থান নেই। তাছাড়া আশেপাশের বাসা গুলো থেকে শৌচাগারের ময়লা ভেসে আসছে পানিতে, এতে করে জনসাধারণ হাটা চলা করতে গিয়ে দূগর্ন্ধে অতিষ্ট। এমনি একটি অবস্থা হয়ে পড়ছে দুইদিন বৃষ্টি হওয়ার পর রাস্তাঘাটে।কাাঁচা বাজারে পানি বন্ধী হয়ে চলাচলে জনসাধারনের দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়।ড্রেনে ময়লা বেধে পানি নিস্কাশন না হওয়ার কারনে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে পথচারীরা। বাজারে ঘুরে দেখা যায় কোন অংশে হাটু সমান পানি বেঁধে আছে।
অন্য দিকে বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, মহাসড়ক থেকে কাঁচাবাজার হয়ে শফিক মোড় পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশা, বহুদিন ধরে নেই কোন সংস্কার কাজ। তাছাড়া বাসাবাড়ির শৌচাগারের ময়লা এই পানিতেই ছাড়া হয়। এতে করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পথচারীরা হাটা চলায় দূর্ভোগ পোহাতে হয়।
বিশেষ করে মাওনা চৌরাস্তা পুরাতন কাঁচাবাজার থেকে শফিক মোড় অভিমুখী সড়কে পয়ঃনিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় শৌচাগারের লাইন ড্রেন ও সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো পথচারী, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, মুসল্লি ও যানবাহন চালকদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁচাবাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে পয়ঃবর্জ্য মিশ্রিত পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও সেই পানি সরাসরি সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যায়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা ও শৌচাগারের বর্জ্য মিশে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং চলাচল প্রায় দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। যানবাহন চলাচলের সময় ময়লা পানি ছিটকে পথচারীদের গায়ে লাগছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে থাকা তেলিহাটি-মুলাইদ সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও আবাসিক ভবন। কিন্তু বাজার থেকে মহাসড়ক পর্যন্ত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত মাওনা চৌরাস্তার মতো এলাকায় এখনো আধুনিক ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কাঁচামাল ব্যবসায়ী রাকিব বলেন, বছরের পর বছর ধরে এই দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছি। শৌচাগারের ময়লা পানি রাস্তায় চলে আসায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চলাফেরা করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।দোকানের সামনে ময়লা পানি থাকার কারনে বেচা বিক্রি কমে গেছে।
বাজারের চাউল ব্যবসায়ীসামছুল হক বলেন, মহাসড়ক থেকে কাঁচাবাজার হয়ে শফিক মোড় পর্যন্ত সড়কটির দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার হয়নি। রাস্তার উত্তর পাশে হাফিজি ও ফাজিল মাদ্রাসা এবং একটি মসজিদ রয়েছে। কয়েকশ শিক্ষার্থী ও মুসল্লিকে প্রতিদিন এই ময়লা পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও মুসল্লিরা জানান, শৌচাগারের বর্জ্য মিশ্রিত পানি শরীরে লাগার ভয়ে অনেকেই মসজিদে আসতে চান না। কাপড়-চোপড় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
কাঁচাবাজার এলাকার মিজান সিটি গার্ডেনের মালিক মিজান অভিযোগ করে বলেন, ২০২০ সালে উপজেলা বরাদ্দের আওতায় একটি ড্রেন নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ড্রেনে শৌচাগারের সংযোগ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা করে নিয়েছে ততকালীন ঠিকাদার মামুন।টাকাগুলো নেওয়ার আগে যারা ময়লা পানির সংযোগ দিবে সবাই একসাথে বসা হয়েছিল। তখন প্রতি সংযোগের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা করে ধরা হয়েছিল। তারমধ্যে আব্দুর রাজ্জাক, ইব্রাহিম, মসজিদ, জগন্নাথ, সুনীল, সাধন, কাদের ও আমি সহ সবাই পঞ্চাশ হাজার টাকা করে চাঁদা দিয়েছি। তবে সেই সংযোগের মাধ্যমে বর্জ্য কোথায় নিষ্কাশন হবে, সে বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।ফলে পয়ঃবর্জ্য জমে থেকে সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে।
যাহারা এই ড্রেনে শৌচাগারের সংযোগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে আলমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা বাড়ি করেছি পানির লাইন কোথায় দিব? এখানে সংযোগ দিয়েছি এখন শৌচাগারের ময়লা কোথায় যাবে তা আমরা জানি না। তাছাড়া মজিবরের মাধ্যমে টাকা তুলে আমরা নিজেরাই এতোদিন পরিস্কার করেছি।
সংযোগ গ্রহণকারী আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তারা নির্ধারিত অর্থ প্রদান করে সংযোগ নিয়েছেন। তবে বর্তমানে পয়ঃবর্জ্য কোথায় যাচ্ছে বা কীভাবে নিষ্কাশন হচ্ছে, সে বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।
স্থানীয়দের ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজার এলাকায় নির্দিষ্ট কোনো বর্জ্য ফেলার স্থানও নেই। ফলে কঠিন বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। অনেক স্থানে ড্রেন আবর্জনায় ভরে গিয়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে থাকতে দেখা গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, খোলা স্থানে পয়ঃবর্জ্য ছড়িয়ে পড়লে ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘদিন এমন অবস্থা চলতে থাকলে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত একটি সমন্বিত ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, অবৈধ সংযোগগুলো চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় মাওনা চৌরাস্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য আরও বড় সংকটের মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভুঁইয়া বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।