প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৭, ২০২৬, ১:০৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে নারী চিকিৎসককে অপহরণ, জোরপূর্বক বিয়ের অভিযোগে ডাক্তার গ্রেপ্তার

আশরাফুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে এক নারী চিকিৎসককে অপহরণ করে জোরপূর্বক বিয়ে করার অভিযোগে ডা. মাহবুব হাসান রায়হান (৩১) নামে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ডা. মাহবুব হাসান রায়হান শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের বাউনী গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক শ্রীপুর চৌরাস্তার নিউ এশিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। একই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে রোগী দেখতেন ডা. রায়হান। পরিচয়ের সূত্র ধরে একপর্যায়ে তিনি ওই নারী চিকিৎসককে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠলে ওই নারী চিকিৎসক ঢাকায় চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। বিষয়টি জানতে পেরে ডা. রায়হান আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৭ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রায়হান ওই নারী চিকিৎসককে সাতখামাইর বাজারের একটি চায়ের দোকানে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে চা পান শেষে অটোরিকশাযোগে ফেরার পথে বরমী ইউনিয়নের গাড়ারণ এলাকায় একটি প্রাইভেটকার তাদের গতিরোধ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাদের চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ডা. রায়হানকে বিয়ে করতে চাপ দেওয়া হয়। বিয়ে না করলে তাদের একসঙ্গে তোলা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক একাধিক স্ট্যাম্প ও কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং বিয়ের নাটক সাজানো হয়। পরে ওই নারী চিকিৎসককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ডা. রায়হানকে গ্রেপ্তার করে।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, অভিযুক্ত রায়হান অপহরণের নাটক সাজিয়ে ভুক্তভোগীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্পও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
Copyright © 2026 Protidiner Kontho. All rights reserved.