স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতাল চত্বরে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টির পানিও দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। ফলে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই হাসপাতাল এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চলাচল ব্যাহত হয় এবং রোগীদের হাসপাতালে প্রবেশ ও বের হতে নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়।
বুধবার দুপুরে অল্প একটু বৃষ্টিতে হাসপাতাল চত্বরে পানি জমে যায়। রোগীদের অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে কিংবা জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসা নিতে এসে জলাবদ্ধতার কারণে তাদের ভোগান্তি দ্বিগুণ হয়ে যায়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই হাসপাতালের এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন রোগীর স্বজন জামাল বলেন, রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসার পর দেখি চারদিকে পানি। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন অবস্থা হওয়া উচিত নয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতালের ভেতরে জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ড্রেন সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার অন্যতম প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিদিন শত শত রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। অতীতে জনবল সংকট, বিভিন্ন অনিয়মসহ নানা সমস্যার কারণে রোগীদের ভোগান্তির খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, রোগীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশনেবিকল্প ব্যবস্থা এবং হাসপাতাল চত্বর উঁচুকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, জলাবদ্ধতার বিষয়টি নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে।বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।আশরা করি খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।