প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৩, ২০২৬, ৩:৫৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২২, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ

কাঁঠালভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন: লায়ন গনি মিয়া বাবুল
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠালকে কেন্দ্র করে আধুনিক শিল্প ও রপ্তানিমুখী খাত গড়ে তোলার জন্য কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষক, কবি, কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল। তিনি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে এর বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন এবং দেশ হারায় সম্ভাব্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ।
সম্প্রতি এক প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও কাঁঠালের মতো সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য এখনও অর্থনীতিতে তার যথাযথ অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। অথচ পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে কাঁঠালকে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও রপ্তানি পণ্যে রূপান্তর করা সম্ভব।
তিনি জানান, গাজীপুর, নরসিংদী, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, সিলেট, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপকভাবে কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। তুলনামূলক কম খরচে চাষযোগ্য এবং দীর্ঘদিন ফলনশীল হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক ফসল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ, কোল্ড চেইন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাবে কৃষকরা অনেক সময় কম দামে কাঁঠাল বিক্রি করতে বাধ্য হন।
লায়ন গনি মিয়া বাবুল বলেন, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাঁঠালকে ‘সুপার ফুড’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ফল স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় কাঁচা কাঁঠাল উদ্ভিজ্জ খাদ্য হিসেবে ব্যাপক চাহিদা তৈরি করেছে। ভেগান ও নিরামিষভোজীদের কাছে এটি মাংসের বিকল্প হিসেবেও সমাদৃত।
তিনি আরও বলেন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো ফল প্রক্রিয়াজাত করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। বাংলাদেশও কাঁঠালের চিপস, জ্যাম, জেলি, ক্যান্ডি, ফ্রোজেন কাঁঠাল, পাউডার, জুস এবং বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে পারে।
তার মতে, কাঁঠালের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর প্রায় প্রতিটি অংশ ব্যবহারযোগ্য। কাঁঠালের বিচি থেকে ময়দা, বিস্কুট ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরি করা সম্ভব। অন্যদিকে খোসা ও অবশিষ্টাংশ পশুখাদ্য এবং জৈব সার উৎপাদনে কাজে লাগানো যায়। ফলে এই শিল্পে অপচয়ের পরিমাণ খুবই কম।
তিনি বলেন, কাঁঠাল উৎপাদনকারী এলাকায় আধুনিক সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পরিবহন, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং, বিপণন ও রপ্তানি খাতে হাজার হাজার মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রবন্ধে তিনি কাঁঠালভিত্তিক শিল্প উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার, উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, কর রেয়াত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ‘বাংলাদেশি জ্যাকফ্রুট’ ব্র্যান্ড গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি মনে করেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক রপ্তানি খাত সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি। কাঁঠাল ও কাঁঠালজাত পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে রপ্তানি বহুমুখীকরণ সম্ভব হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
লায়ন গনি মিয়া বাবুল বলেন, “কাঁঠাল শুধু একটি ফল নয়, এটি হতে পারে গ্রামীণ উন্নয়ন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন দিগন্ত। তাই জাতীয় ফলের মর্যাদাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।”