প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৩, ২০২৬, ২:৪৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২২, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে আ.লীগ নেতা আটকের ১৩ ঘণ্টা পর ‘বিএনপি কর্মী’ পরিচয়ে মুক্ত

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ গ্রাম কমিটির সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত মো. লোকমান হোসেনকে আটকের প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর বিএনপির কর্মী দাবি করে থানা পুলিশের হেফাজত থেকে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়েছেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতারা।
বিএনপি নেতাদের দাবি, লোকমান হোসেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন এবং দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
রোববার (২২ জুন) দুপুরে শ্রীপুর থানায় মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব ও সদস্য সচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ। এ সময় পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সরকারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার দিবাগত রাতে শ্রীপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে লোকমান হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটক মো. লোকমান হোসেন (৫৫) শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া দক্ষিণখণ্ড গ্রামের মৃত আলিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের গ্রাম কমিটির সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার পর দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অরাজকতা এড়াতে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিষয়ে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। লোকমান হোসেনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া, ছবি ও কমিটির তালিকায় নাম থাকার তথ্য পাওয়ার পর তাকে আটক করা হয়।
আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ একাধিক নেতাকর্মী থানায় যান। তারা দাবি করেন, লোকমান হোসেন আওয়ামী লীগের নেতা নন; তিনি আগে থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পরে ৫ আগস্টের পর তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। এ দাবির সমর্থনে নেতারা বিএনপির কর্মসূচিতে লোকমান হোসেনের অংশগ্রহণের ছবি এবং যোগদানের সময় গলায় ফুলের মালা পরা ছবিও পুলিশকে দেখান বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, লোকমান হোসেনকে থানায় আনার পর সকালে বিএনপির কয়েকজন নেতা সেখানে যান। এ সময় লোকমানের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে পুলিশের সঙ্গে নেতাদের কথা-কাটাকাটি হয়।
পুলিশ আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকা ও পুরোনো ফেস্টুনের ছবি দেখালে নেতারা বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের ছবি উপস্থাপন করেন। পরে মুচলেকা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ বলেন, লোকমান হোসেন আগে থেকেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন। মাঝখানে আওয়ামী লীগ সুবিধা নিতে তার ছবি ব্যবহার করে পোস্টার-ব্যানার তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগের গ্রাম কমিটিতে তার নাম থাকার বিষয়টি তিনি নিজেও জানতেন না।
পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, লোকমান হোসেন বিএনপির একজন কর্মী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেও কাজ করেছেন। তাকে কুচক্রী মহলের নজর থেকে রক্ষা করা হয়েছে।
থানায় বাকবিতণ্ডার অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, আটক লোকমান হোসেনের নাম কোনো এজাহারে উল্লেখ ছিল না। তাকে অজ্ঞাত হিসেবে থানায় আনা হয়েছিল। সকালে বিএনপির নেতারা এসে তাদের কর্মী হিসেবে প্রমাণ উপস্থাপন করেন। পরে মুচলেকা নেওয়ার পর তাকে তাদের হেফাজতে দেওয়া হয়। তারা পুলিশ সুপারের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
এ বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।
Copyright © 2026 Protidiner Kontho. All rights reserved.