প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৭, ২০২৬, ৮:৫৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৭, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
শ্রীপুরে শ্রমিক অসন্তোষে ফের উত্তেজনা নিহত শ্রমিক লিজার মিলাদে পুলিশের গুলির অভিযোগ, আহত ১২

আশরাফুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাকশ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত শ্রমিকের মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত শ্রমিকদের লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের দাবি, লিজা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে শনিবার সকালে প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল।
একই সময় নিহত লিজা আক্তারের আত্মার মাগফিরাত কামনায় একটি মিলাদ মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী শ্রমিকরা সেখানে জড়ো হলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ১২ জন শ্রমিক আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) একই এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার শ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যুর প্রতিবাদে শত শত শ্রমিক বিক্ষোভ, ভাঙচুর এবং সড়ক অবরোধ করেন। শ্রমিকরা মাওনা-বরমী ও মাওনা-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করলে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কর্মরত অবস্থায় লিজা আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়লেও কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়নি। সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব ছিল বলে দাবি তাদের।
নিহত লিজা আক্তার (৩৬) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হুগলা গ্রামের বিদ্যুৎ মিয়ার স্ত্রী।
এদিকে সর্বশেষ ঘটনার পর শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়েছে। তারা লিজা আক্তারের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যয় বহনের দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টেপিরবাড়ি ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Copyright © 2026 Protidiner Kontho. All rights reserved.