শ্রীপুরে ড্রেন নির্মাণে অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত ও মান যাচাইয়ের দাবি স্থানীয়দের
Reporter Name
/ ১৯
Time View
Update :
শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
Share
আশরাফুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া চন্নাপাড়া এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নির্মাণে ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটিতে নির্ধারিত মান অনুসরণ না করে কাজ করায় এর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেওয়া চন্নাপাড়ার লাজিমুন্সির বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নির্ধারিত সিলেকশন বালুর পরিবর্তে সাধারণ নদীর বালু ব্যবহার করা হচ্ছিল।
তাদের ভাষ্য, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পাওয়ার পরপরই শ্রমিকরা সাধারণ বালু সরিয়ে সিলেকশন বালু ব্যবহার শুরু করেন।
পরিদর্শনের সময় নির্মাণাধীন ড্রেনের বিভিন্ন অংশের ঢালাই করা দেয়ালে (ওয়াল) অসংখ্য হানিকম দেখা যায়।
নির্মাণ প্রকৌশল সংশ্লিষ্টদের মতে, কংক্রিটে হানিকম সৃষ্টি হলে ভেতরে ফাঁপা অংশ থেকে যায়, ফলে কাঠামোর শক্তি ও স্থায়িত্ব কমে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব স্থানে ফাটল বা ক্ষয় সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জনগণের করের টাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা হচ্ছে না। শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করলে এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ থাকত না।
একাধিক এলাকাবাসী জানান, নির্মাণকাজ চলাকালে কার্যকর কোনো তদারকি তাদের চোখে পড়েনি। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছামতো নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা প্রকল্পের নির্মাণমান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই যদি ঢালাইয়ে হানিকম এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের চিত্র দেখা যায়, তাহলে কয়েক বছরের মধ্যেই ড্রেনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। এতে একদিকে যেমন সরকারের অর্থের অপচয় হবে, অন্যদিকে জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষাসহ অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
প্রকল্পের ব্যয়, টেন্ডার নম্বর এবং কাজের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী এস এম নাজমুল আমিনকে পাওয়া যায়নি। অফিস সহকারী জানান, তিনি সাইটে গেছেন। পরে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি ছুটিতে রয়েছেন। তবে কাজ তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কাজের মান খারাপ প্রমাণিত হলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।তবে প্রকল্পের ব্যয়, টেন্ডার নম্বর বা অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।