আশরাফুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন প্রায় ১,২০০ বছরের পুরোনো ওয়াদ্দার দিঘির একটি অংশ ভরাট করে বসতবাড়ি নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দিঘিটি রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩২ বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত এ দিঘিটি পাল রাজবংশের শাসক আদিত্যপালের আমলে খনন করা হয়েছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সে কারণে একসময় এটি ‘আদিত্যপালের দিঘি’ নামে পরিচিত ছিল। সময়ের পরিক্রমায় নাম পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এটি ‘ওয়াদ্দার দিঘি’ বা ‘ওয়েদাদিঘি’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এটি এলাকার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দা শাজাহান মিয়া দিঘির একটি অংশ ভরাট করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এতে দিঘিটির প্রাকৃতিক পরিবেশ, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাজাহান মিয়া বলেন, “সরকার আমাদের গুচ্ছ গ্রামের জন্য বৈধভাবে দলিলের মাধ্যমে জমি দিয়েছে। সেই জমিতেই আমরা বসতবাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখানে কোনো অবৈধ দখল বা দিঘি ভরাটের ঘটনা ঘটেনি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দিঘিটি শুধু একটি জলাশয় নয়; এটি এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ। তাই যদি দিঘির কোনো অংশে অবৈধভাবে ভরাট বা স্থাপনা নির্মাণের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় দিঘিটি সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।