• বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন
Headline
একজন অসহায় আল-আমীনের চিকিৎসায় আপনার একটু সহায়তাই হতে পারে বেঁচে থাকার আশা বীর মুক্তিযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন কাপাসিয়ায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নিখোঁজ, সন্ধানের দাবিতে এলাকাবাসী-শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন শ্রীপুরে পারিবারিক কলহে জামাইয়ের মারধরে শ্বশুরের মৃত্যু শ্রীপুরে মোবাইল কিনে না দেওয়ায় শিশুর আত্মহত্যা কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোগিতায় ফ্রি চোখের ছানি পরীক্ষা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রীপুরে হানি ট্র্যাপ চক্রের ৪ সদস্য আটক, কথিত মূলহোতা খোকন পলাতক কালীগঞ্জে একদিনে শিক্ষা-সংস্কৃতি-ক্রীড়া ও মাদকবিরোধী নানা আয়োজন শ্রীপুরে বস্তায় মোড়ানো কথিত লাশ দেখিয়ে এক রাজমিস্ত্রীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ শ্রীপুরে রাতের আঁধারে জবাই ১২ ঘোড়া জঙ্গলে পড়ে রইল মাথা-চামড়া, উধাও মাংস

সরকারি বরাদ্দের দুই বছর পরও টাকা পায়নি কোনো শিক্ষার্থী, টাকা উত্তোলনের অভিযোগ শ্রীপুর শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে 

Reporter Name / ১১৬ Time View
Update : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

আশরাফুল ইসলাম, গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত অর্থে অ্যাসিস্টিভ ডিভাইস (সহায়ক উপকরণ) ক্রয়ে অনিয়ম, শর্ত লঙ্ঘন এবং অর্থ আত্মসাৎ এর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারের বরাদ্দের অর্থ বিল-ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করা হলেও তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে এখন পর্যন্ত ডিভাইস বা অর্থ দেওয়া হয়নি। এমনকি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা দাবি করেছেন, এ বরাদ্দ ও কেনাকাটার বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)-এর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে শ্রীপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাসিস্টিভ ডিভাইস ক্রয়ে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নথিতে ডিভাইস ক্রয় সম্পন্ন দেখিয়ে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে কোনো শিক্ষার্থীর হাতে সেই ডিভাইস পৌঁছায়নি।
সরেজমিনে উপজেলার ডুমনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ফারিয়া (রোল-১৬), নিজ মাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ওমর, উজিলাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রাবেয়া বসরি এবং পঞ্চম শ্রেণির বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তাহসিনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কেউই পিইডিপি-৪-এর আওতায় কোনো ধরনের সহায়ক ডিভাইস বা সরকারি সুবিধা পায়নি।
সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বরাদ্দ এসেছে বা শিক্ষা অফিস থেকে কোনো ডিভাইস ক্রয় করা হয়েছে—এ বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা কমিটির সভা আয়োজন এবং উপকারভোগী নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। এমনকি অ্যাসিস্টিভ ডিভাইস বিতরণের শর্তও অনুসরণ করা হয়নি। কমিটির একাধিক সদস্যের দাবি, তারা নিজেরাই জানেন না যে তারা ওই কমিটির সদস্য।
এছাড়া সরকারি বিধি অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে অর্থ ব্যয়ের বিবরণ ওয়েবভিত্তিক কম্পিউটারাইজড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে (Web-based Computerized Accounting System) অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম থাকলেও সেটিও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সেখানে বিভ্রান্তিকর তথ্যও দেওয়া হয়েছে।
নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৩০ জুন ২০২৬ সালের আগেই অ্যাসিস্টিভ ডিভাইস ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীর মধ্যে সেগুলো বিতরণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
এ বিষয়ে সোমবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যা করেছি, সবই নিয়মনীতি অনুসরণ করেই করেছি।তবে তিনি ২০২৫ সালের বরাদ্দসংক্রান্ত কোনো নথি দেখাতে পারেননি। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৬ সালে কোনো মালামাল ক্রয় করা হয়নি।
কিন্তু ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখের ২৫৬৬ নম্বর এবং ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ২৫৬৫ নম্বর ভাউচারের মাধ্যমে গাজীপুর সার্জিক্যাল হাউস থেকে অ্যাসিস্টিভ ডিভাইস ক্রয় এবং সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলনের নথি দেখানো হলে তিনি দৃশ্যত বিব্রত হয়ে পড়েন। এ বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এ ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা