শ্রীপুরে জমি বিরোধে দাফন আটকে গেল আদিবাসী নারীর, শেষ পর্যন্ত মানবিকতার হাত বাড়ালেন সাবেক চেয়ারম্যান
Reporter Name
/ ৫৮
Time View
Update :
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
Share
আশরাফুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মৃত্যুর পরও দাফনের জায়গা না পেয়ে প্রায় ২০ ঘণ্টা মরদেহ নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে এক আদিবাসী পরিবারের।
বসতঘরের বারান্দায় মরদেহ রেখে রাতভর অপেক্ষার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশের উপস্থিতিতে দফায় দফায় সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। পরে মাওনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক নিজের ধানের জমি দাফনের জন্য ছেড়ে দিলে শেষ বিদায়ের ব্যবস্থা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামে। মৃত ওই নারীর নাম শ্রী মেনোকা (৬০)। তিনি ওই গ্রামের গোপালের স্ত্রী এবং মান্দাই সম্প্রদায়ের সদস্য। বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার(১১ আগষ্ট) দুপুরের দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
মেনোকার পরিবারের দাবি, গোপাল কয়েক দশক আগে আক্তাপাড়া গ্রামে এক শতাংশ জমি কিনে সেখানে ঘর নির্মাণ করে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। প্রায় এক বছর আগে প্রতিবেশী ছফর উদ্দিনের কাছ থেকে আরও এক শতাংশ জমি কেনেন তিনি। মিউটেশন জটিলতার কারণে জমিটি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। তবে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে জমির মূল্য পরিশোধ করা হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, বর্তমানে ছফর উদ্দিন ওই জমি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করছেন। ফলে মেনোকার মরদেহ ঘরের পাশে দাফনের জন্য কবর খনন করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বসতবাড়ির বারান্দায় মেনোকার মরদেহ রেখে স্বজনেরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠক করলেও কোনো সমাধান হয়নি।
মেনোকার ছেলে সুনিল বলেন, আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে পাচ্ছিলাম না। মায়ের মরদেহ নিয়ে রাত জেগে অপেক্ষা করতে হয়েছে। মেম্বার, চেয়ারম্যান ও থানা-পুলিশের কাছে গিয়েও সমাধান পাইনি। অবশেষে মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হকের জমিতে মাটি দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে ছফর উদ্দিন বলেন, আমি তাঁর কাছে কোনো জমি বিক্রি করিনি। কোনো টাকাপয়সাও নিইনি। আমার জমিতে দাফন করতে দেব না।
মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, ছফর উদ্দিনকে অনেক বোঝানো হয়েছে। কিন্তু তিনি কারও কথা মানেননি। এ কারণে দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
পরে মানবিক কারণে ফজলুল হক তাঁর নিজের ধানের জমি দাফনের জন্য ছেড়ে দেন। এতে দীর্ঘ অপেক্ষার পর মেনোকার মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ সাধ্যমতো বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছে। তবে জমি সংক্রান্ত বিরোধের সমাধান না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারকে আদালতের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।