অভিযোগকারী কামরুল হাসান আজাদ দাবি করেন, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ওই জমি তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিবাদীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে বিভিন্ন সময় তাঁকে গালিগালাজ, খুন-জখমের হুমকি ও হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, সোমবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করে সেখানে থাকা রোপিত ফলজ গাছ কাটতে শুরু করেন।
খবর পেয়ে কামরুল হাসান আজাদ ও তাঁর পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটতে বাধা দেন। এ সময় বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং মারধর ও খুন-জখম করে লাশ গুম করার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে জমির বিরোধ মীমাংসার জন্য গত ২৯ আগস্ট স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানান কামরুল হাসান আজাদ। তাঁর দাবি, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খায়রুল কবির মন্ডলের পরিচালনায় এবং মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হকের সভাপতিত্বে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে শ্রীপুর উপজেলা, মাওনা ইউনিয়ন ও তেলিহাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি জানান।
কামরুল হাসানের ভাষ্য, ওই সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে সার্ভেয়ার ও সালিশে মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ে জমি মাপতে গেলে আবুল বাশারসহ ১০-১৫ জন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে জমি মাপতে বাধা দেন।
এ সময় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিস্থিতির কারণে সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমি মাপা সম্ভব হয়নি বলে দাবি তাঁর।
তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমি ভোগদখল করে আসছি। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমি মাপতে গেলে বাধা দেওয়া হয়েছে। পরে সোমবার সকালে তারা দলবল নিয়ে জমিতে ঢুকে গাছ কাটতে শুরু করে। বাধা দিলে আমাদের মারধর ও খুনের হুমকি দেওয়া হয়। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, জমির দখল ও বিরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসন, স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মাহবুব রহমান কবির বলেন, আমরা এই জমির বৈধ মালিক। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ভোগদখল রয়েছে। কিছুদিন আগে সেখানে নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করতে গেলে কামরুল হাসান আজাদ ও তাঁর লোকজন বাধা দেন। পরে স্থানীয়ভাবে জমি মাপজোক করা হয়। বর্তমানে আমরা সেই মাপজোকের ভিত্তিতেই কাজ করছি।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য উভয় পক্ষকে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।