রাতভর নিখোঁজ থাকার পর গজারি বনে মিলল অটো চলকের লাশ, তদন্তে পুলিশ
Reporter Name
/ ৪
Time View
Update :
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
Share
আশরাফুল ইসলাম,শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে মেহেদী হাসান আসিফ (২২) নামে এক অটোরিকশা চালকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডুয়াইবাড়ি এলাকার গজারি বনসংলগ্ন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আসিফ বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার বাসিন্দা হুমায়ুন আহমেদের ছেলে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্রীপুর উপজেলার ডুয়াইবাড়ি গ্রামে তার নানা মৃত নুরুল ইসলামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। পেশায় তিনি একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন।
নিহতের মামা সাব্বির জানান, আসিফের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তার মা আসমা আক্তার তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। জীবিকার তাগিদে তিনি ও আসিফ দুজনেই অটোরিকশা চালাতেন। বুধবার(১৩ মে) সন্ধ্যায় তারা একসঙ্গে রাজাবাড়ি বাজারে ছিলেন। পরে তিনি বাড়ি ফিরে এলেও আসিফ বাজারেই অবস্থান করছিলেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, আসিফ একটি রিজার্ভ ভাড়ায় কোথাও গিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, রাত বাড়লেও আসিফ বাড়িতে না ফেরায় আমরা তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করি। রাত দেড়টা পর্যন্ত ফোন দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশেই তার অটোরিকশাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে গজারি বনের পাশে তার গলা কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে শ্রীপুর থানা পুলিশ, গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসফাকউজ্জামান সহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে আলামত সংগ্রহ এবং হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসফাকউজ্জামান বিপিএম বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যার পেছনে কারা জড়িত এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।