সরেজমিনে দেখা যায়, পাম্পের খোলা ও পাকা চত্বরে কৃষকরা ধান ছড়িয়ে শুকাচ্ছেন। কোথাও আবার ধান মাড়াইয়ের কাজ চলছে, আবার কোথাও নারী-পুরুষ মিলে শুকানো ধান উল্টেপাল্টে দিচ্ছেন। ব্যস্ত সড়কের পাশে এমন দৃশ্য পথচারী ও স্থানীয়দের দৃষ্টি কাড়ছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটার পর একসঙ্গে অনেক ধান ঘরে উঠেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত খোলা জায়গা না থাকায় তারা বিকল্প স্থান হিসেবে পেট্রোল পাম্পের পাকা জায়গা ব্যবহার করছেন। পাম্পের খোলা চত্বর হওয়ায় রোদ ভালো লাগে এবং দ্রুত ধান শুকানো সম্ভব হয়।
টেংরা গ্রামের এক কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, গ্রামের ছোট উঠানে এত ধান শুকানো সম্ভব না। এখানে জায়গা বড়, তাই সুবিধা হচ্ছে। কয়েকদিনে শুকিয়ে ঘরে তুলতে পারবো।
আরেকজন কৃষাণী খোদেজা আক্তার বলেন, ধান মাড়াইয়ের জন্য পরিষ্কার ও পাকা জায়গা দরকার হয়। পাম্পে গাড়ির চাপ কম থাকায় আমরা সাময়িকভাবে কাজ করছি।
উপজেলার টেপিরবাড়ি আর এইচ ফিলিং স্টেশনের মালিক আলহাজ্ব রুহুল আমিন আকন্দ বলেন, আগে পাম্পে সারাদিন যানবাহনের আনাগোনা থাকলেও এখন অনেক সময় ফাঁকা পড়ে থাকে।ধান মাড়াইয়ের জন্য ভালো শুকনো জায়গার প্রয়োজন, তাই সেই সুযোগে মৌসুমি প্রয়োজনে জায়গাটি কাজে লাগিয়েছি। এতে করে ধানগুলো দ্রুত শুকিয়ে ঘরে তুলতে পেরেছি।
তবে সবকিছুর মধ্যেও এই দৃশ্য গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। কৃষকের প্রয়োজন আর খোলা জায়গার অভাবে ব্যস্ত পেট্রোল পাম্প এখন হয়ে উঠেছে ধান মাড়াই ও শুকানোর অস্থায়ী কর্মস্থল। গ্রামের কৃষকদের জীবনযুদ্ধ ও মৌসুমি ব্যস্ততার এমন চিত্র স্থানীয়দের মাঝেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সচেতন মহল বলেন, পেট্রোল পাম্পে দাহ্য পদার্থ থাকায় সেখানে ধান মাড়াই ও শুকানোর সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে আগুন, ধূমপান বা বৈদ্যুতিক ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে হবে। পাম্প কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনেরও এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো দরকার।