গ্ৰেপ্তার হওয়া আবদুর রহিম কালীগঞ্জ পৌরসভার বালীগাঁও গ্রামের মৃত ওহাব আলীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন রিকশা চালক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর মা স্থানীয় একটি গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে প্রতিদিনের মতো গত বছরের ৪ নডেম্বর রাতেও তিনি কাজে যান। বাসায় রেখে যান তার তিন মেয়েকে। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগে প্ৰতিবেশী আবদু ২ ঘরে প্রবেশ করে প্ৰথমে নানা প্রলোভন দেখান এবং পরে ভয়ভীতি প্ৰদৰ্শন করে কিশোরীকে ধৰ্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্ৰাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এরপর বিভিন্ন সময়ে একই কৌশলে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। দীর্ঘদিন ভয় ও আতঙ্কে মুখ বন্ধ রাখলেও একপর্যায়ে তার শারীরিক পরিবর্তন স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে বিষয়টি নিয়ে প্ৰশ্ন করা হলে কিশোরী অভিযুক্তের নাম প্ৰকাশ করে। এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সোমবার রাতে স্থানীয় জনতা আবদুর রহিমকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-২৮ (৫) ২৬)|
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকৰ্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় অভিযুক্তকে প্ৰথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আাহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্ৰাপ্ত তথ্য-প্ৰমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হবে।