মোঃ মাইনুল সিকদার, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
দেশজুড়ে বয়ে যাওয়া মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, তখন একটু স্বস্তির খোঁজে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র, পার্ক ও রিসোর্টের ওয়াটারফ্রন্ট-পুলগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো মানুষ। তীব্র রোদ আর অসহনীয় গরম থেকে বাঁচতে শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়স্করাও ছুটে যাচ্ছেন এসব বিনোদন কেন্দ্রে।
সরেজমিনে উপজেলার চন্দ্রা, মৌচাক, মধ্যপাড়া ও সফিপুর এলাকার কয়েকটি বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সুইমিং পুলগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। কোথাও কৃত্রিম ওয়াটার পুলে গাদাগাদি করে গোসল করছেন শত শত মানুষ, আবার কোথাও পুলের পাশে বসার জায়গাও খালি পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই পাম গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে পানিতে নামার অপেক্ষা করছেন।
তীব্র গরমের কারণে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে সরাসরি পুলে নেমে পড়ছেন। কেউ পোশাকসহ, কেউ আবার গামছা কিংবা লুঙ্গি পরে পানিতে নেমে গরমের কষ্ট ভুলতে চাইছেন।
মৌচাক এলাকার বাসিন্দা আমিনুল হোসেন বলেন, দুইদিন ধরে ঘরে থাকাই দায় হয়ে গেছে। ফ্যান চললেও গরম কমে না। বাচ্চারা কান্নাকাটি করছিল। তাই ৫০ টাকার টিকিট কেটে পুলে নিয়ে আসলাম। আধাঘণ্টা পানিতে থাকার পর এখন একটু স্বস্তি লাগছে।
হঠাৎ দর্শনার্থীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হিমশিম খাচ্ছে বিনোদন কেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। অধিকাংশ পুলে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি মানুষ গোসল করছেন। এতে পানির গুণগতমান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
অভিভাবকদের অভিযোগ, অধিকাংশ পুলে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড নেই। ১৫০ থেকে ২০০ মানুষের জন্য মাত্র একজন বা দুজন লাইফগার্ড দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক শিশু-কিশোর সাঁতার না জেনেও গভীর পানিতে নেমে যাচ্ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
রাঙামাটি রিসোর্টের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গরমের কারণে প্রতিদিন এক থেকে দুই হাজার মানুষ আসতেছে। কিন্তু আমাদের কর্মী ও লাইফগার্ড বাড়ানোর সুযোগ নেই। মাইকিং করে সতর্ক করা হলেও অনেকে নির্দেশনা মানেন না।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক মেডিকেল অফিসার জানান, অতিরিক্ত ভিড় থাকা পুলে গোসল করলে চর্মরোগ, ফাঙ্গাস ইনফেকশন ও চোখের কনজাংটিভাইটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনেকে পানিতে থুথু বা প্রস্রাব ফেলেন, যা সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, পুলে নামার আগে ও পরে সাবান দিয়ে গোসল করা উচিত। ক্লোরিনযুক্ত ও পরিষ্কার পানি ছাড়া অন্য পুলে নামা ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া হিটস্ট্রোক এড়াতে কিছুক্ষণ পরপর ছায়ায় বিশ্রাম নিতে হবে এবং পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও স্যালাইন পান করতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
এদিকে তীব্র গরম অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।