• মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
Headline
শ্রীপুরে আ.লীগ নেতা আটকের ১৩ ঘণ্টা পর ‘বিএনপি কর্মী’ পরিচয়ে মুক্ত  কাঁঠালভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন: লায়ন গনি মিয়া বাবুল কালীগঞ্জে মাটি ব্যবসায়ীর জরিমানা, ইয়াবাসহ যুবকের জেল বালতির পানিতে আড়াই বছরের আরিশাকে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ, কিশোরীর আত্মসমর্পণ শ্রীপুরে পাঁচটি বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন ভালুকায় ৪০ লিটার চোলাই মদসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আমার বাবা:লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল   বর্ষার বনগাঁদায় সেজেছে শ্রীপুরের রেলপথ ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ শিশুরা এক দেয়ালের ধসে নিভে গেল বৃদ্ধ কৃষকের স্বপ্ন, মারা গেল দুধেল গাভী ও বাছুর  কালিয়াকৈরে কৃষি বিভাগের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

বালতির পানিতে আড়াই বছরের আরিশাকে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ, কিশোরীর আত্মসমর্পণ

Reporter Name / ৪ Time View
Update : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি:গাজীপুরের কালীগঞ্জে আড়াই বছরের শিশু আরিশা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও পরে এক কিশোরীর স্বীকারোক্তিতে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে সামনে এসেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার (২০ জুন) দুপুরে ইসরাত জাহান মীম (১৪) নামে এক কিশোরী সরাসরি কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারের কাছে নিজেকে হত্যাকাণ্ডের দায়ী দাবি করে। থানায় গিয়ে সে বলে, “আমি শিশু আরিশাকে বালতির পানিতে চুবিয়ে মেরেছি, আমাকে হাজতে ভরেন।

ঘটনার পরদিন রোববার (২১ জুন) সকালে নিহত শিশুর বাবা মো. আলহাজ শেখ বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-২২। পুলিশ অভিযুক্ত কিশোরীকে আদালতে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইসরাত জাহান মীম কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়া এলাকার রাজপাড়া গ্রামের আবু কালামের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

নিহত আরিশা আক্তার রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্ত গ্রামের বাসিন্দা মো. আলহাজ শেখের মেয়ে। তার বাবা-মা কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। তারা সেখানে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

থানার ডিউটি অফিসার জোনাকী আক্তারের কাছে দেওয়া বক্তব্যে মীম জানায়, তার মা ছোট্ট আরিশাকে বেশি স্নেহ করতেন। এ ছাড়া শিশুটি বারবার তার কাছে বিস্কুট চাইছিল। এসব কারণে সে বিরক্ত হয়েছিল বলে দাবি করে। তবে নিহত শিশু বা তার পরিবারের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল না বলেও জানায় সে।

মীমের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় সে ঘরের ভেতরে ছিল। পরে বাইরে এসে আরিশাকে টিউবওয়েলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। সেখানে থাকা একটি খালি বালতিতে পানি ভরে শিশুটিকে পা ধরে উল্টো করে কয়েক মিনিট পানির মধ্যে চুবিয়ে রাখে।

অন্যদিকে আরিশার মা জানান, ঘটনার সময় তিনি ও তার স্বামী ঘরে বসে চাকরিসংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। কিছুক্ষণ পর মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে টিউবওয়েলের পাশে রাখা পানিভর্তি বালতির মধ্যে শিশুটিকে দেখতে পান। দ্রুত তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম মেয়েটি হয়তো দুর্ঘটনাবশত পানিতে পড়ে গেছে। পরে পুলিশ এসে জানায়, বাড়িওয়ালার মেয়ে থানায় গিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।”

নিহত শিশুর বাবা আলহাজ শেখ বলেন, “আমি কিছু সময়ের জন্য কারখানায় গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি আমার মেয়ে ও বাড়িওয়ালার মেয়ে একসঙ্গে খেলছে। সে আমার মেয়েকে টোস্ট বিস্কুটও খেতে দিয়েছিল। পরে আমি ঘরে চলে যাই। প্রায় আধাঘণ্টা পর মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে বালতির ভেতরে তাকে পাওয়া যায়।”

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. ইমরান হোসেন জানান, দুপুর ১টার দিকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত কিশোরীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা