শ্রীপুরে ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের প্রমাণ, ইউএনওর পরিদর্শনে মিলল হানিকম ও নিম্নমানের কাজ
Reporter Name
/ ৪৭
Time View
Update :
শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
Share
আশরাফুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া চন্নাপাড়া এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ড্রেন নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নির্মাণত্রুটির অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।
শুক্রবার(৩ জুলাই) সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভুঁইয়া এবং উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী এস এম নাজমুল আমিন নির্মাণকাজে বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেওয়া চন্নাপাড়ার লাজিম মুন্সির বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সিলেকশন বালুর পরিবর্তে সাধারণ নদীর বালু ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়া হচ্ছিল। তাদের দাবি, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পাওয়ার পর শ্রমিকরা সাধারণ বালু সরিয়ে সিলেকশন বালু ব্যবহার শুরু করেন।
পরিদর্শনের সময় নির্মাণাধীন ড্রেনের বিভিন্ন অংশের ঢালাইকৃত দেয়ালে (ওয়াল) অসংখ্য হানিকম দেখা যায়। নির্মাণ প্রকৌশল সংশ্লিষ্টদের মতে, হানিকম সৃষ্টি হলে কংক্রিটের ভেতরে ফাঁপা অংশ থেকে যায়, ফলে কাঠামোর শক্তি ও স্থায়িত্ব কমে যায় এবং ভবিষ্যতে ফাটল বা ক্ষয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করছে। তারা প্রকল্পের নির্মাণমান পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভুঁইয়া বলেন, সরেজমিনে এসে নির্মাণকাজে কিছু অনিয়মের সত্যতা পেয়েছি। ড্রেনের কয়েকটি স্থানে হানিকম দেখা গেছে এবং কিছু কাজে ত্রুটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে মানসম্মতভাবে নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো কাজ নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। কাজের মান নিশ্চিত না হলে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী এস এম নাজমুল আমিন বলেন, পরিদর্শনে কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ত্রুটি না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।তবে প্রকল্পের ব্যয়, টেন্ডার নম্বর ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।