শ্রীপুরে হানি ট্র্যাপ চক্রের ৪ সদস্য আটক, কথিত মূলহোতা খোকন পলাতক
Reporter Name
/ ৫৪
Time View
Update :
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
Share
আশরাফুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর):গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তরুণ-তরুণী ও পথচারীদের জিম্মি করে নির্যাতন এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগে একটি কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় তিন কলেজশিক্ষার্থীসহ চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তবে অভিযোগের মূলহোতা হিসেবে স্থানীয়দের উল্লেখ করা খোকন মিয়া পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী গ্রামের একটি বাড়ি ঘিরে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন,মাওনা ইউনিয়নের কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের জান্নাতুল ফেরদৌস মারিয়া (১৭), মারিয়া আক্তার রিতু (১৭) ও মাহবুব (২০)। তারা তিনজনই মাওনা পিয়ার আলী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী। অপর আটক ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টেপিরবাড়ী এলাকায় ওয়াজউদ্দিনের ছেলে খোকন মিয়ার বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারসহ নানা ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড চলে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি এক মোবাইল ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে মারধর ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
ভুক্তভোগী মোবাইল ব্যবসায়ী নাসিরের অভিযোগ, গত ১৫ আগস্ট মাওনা চৌরাস্তা থেকে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় তিনি হামলার শিকার হন। পরে তাকে আহত অবস্থায় খোকন মিয়ার বাড়িতে নিয়ে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার পরনের কাপড় খুলে ফেলা এবং সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাসিরের দাবি, একপর্যায়ে বন্ধুদের মাধ্যমে বিকাশে প্রায় দেড় লাখ টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ওই অভিযোগের পর মঙ্গলবার দুপুরে খোকন মিয়ার বাড়িতে কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে প্রবেশ করতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে এলাকাবাসী বাড়িটি ঘেরাও করেন। এ সময় খোকন মিয়া পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রীসহ চারজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তবে আটকের আগে স্থানীয়দের মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, পরে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নাসিরের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া একটি দামি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া রক্তমাখা পোশাক, কয়েকজনের ছেঁড়া কাপড়, প্লাস্টিকের পাইপ, বৈদ্যুতিক তার, একাধিক মানিব্যাগ, খালি মোবাইল কভার ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারসহ নানা ধরনের কর্মকাণ্ড চলছিল। নাসিরকে জিম্মি ও নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সেখানে আরও মানুষকে একইভাবে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাদের সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়রা চারজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। প্রাথমিকভাবে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহিনুর আলম বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং নাসিরের করা অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে কথিত মূলহোতা খোকন মিয়াকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।