শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:পোলট্রি, গবাদিপশু ও মৎস্য খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন প্রান্তিক খামারিরা। একই সঙ্গে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে পোলট্রি ফিডের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ১ সেপ্টেম্বর ‘কাফনের কাপড়’ পরে ফের রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খামারিরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুটওভার ব্রিজের নিচে বাংলাদেশের প্রান্তিক পোলট্রি খামারি ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ‘খামারি বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ স্লোগান দিয়ে ময়মনসিংহমুখী লেন অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
এতে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রায় ৩০ মিনিট ওই লেনে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে ফিডের দাম কমানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছেড়ে যান খামারিরা।
মানববন্ধনে খামারিরা অভিযোগ করেন, পোলট্রি খামারের উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই ব্যয় হয় খাদ্য কিনতে। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে প্রতি বস্তা ফিডের দাম ১০০ থেকে ১১২ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে দুই হাজার মুরগির একটি খামারে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
খামারিদের দাবি, একদিকে ফিডের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, অন্যদিকে বাজারে ডিম ও মুরগির ন্যায্য দাম মিলছে না। এতে উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় প্রান্তিক খামারিরা প্রতিনিয়ত লোকসান গুনছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাসেল প্রধান বলেন, পোলট্রি খাতের সমস্যা নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে খামারিদের পাশে রয়েছেন। এর আগে ডিমের দাম ৫-৬ টাকা কমে গেলে তারা প্রতিবাদ করেছিলেন। তখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শুল্ক কমিয়ে উৎপাদন খরচ কমানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে ফিডের দাম কমেনি; বরং আরও বেড়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিন্ডিকেটের কারণে প্রতি কেজি ফিডে প্রায় দুই টাকা এবং প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ১১২ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে।
খামারি এমরানুল হক স্বপন বলেন, ফিডের দাম বৃদ্ধির কারণে প্রান্তিক খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি ভুট্টা ও অন্যান্য কাঁচামালের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার বা সমন্বয়, সয়াবিন ও ভুট্টাসহ ফিডের কাঁচামালে সরকারি ভর্তুকি এবং কৃষিখাতের মতো পোলট্রি খাতেও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি ফিড মিলগুলোতে বিএসটিআইয়ের অযাচিত হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারি পরিষদের সভাপতি আসাদুজ্জামান মামুন বলেন, আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে পোলট্রি সেক্টরের খাদ্যের দাম কমাতে হবে। অন্যথায় ১ সেপ্টেম্বর ‘কাফনের কাপড়’ পরে দাবি আদায়ে আবারও রাস্তায় নামবেন তারা।
খামারিদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
খামারিদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিশ্চয়তার কারণে দেশের প্রান্তিক পোলট্রি খাত ক্রমেই সংকটের দিকে যাচ্ছে। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ছোট ও মাঝারি খামারের বড় একটি অংশ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।