• মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন
Headline
লোকসংগীতে বিটিভির ‘ক’ শ্রেণির শিল্পী হলেন রোজিনা আক্তার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ,শ্রীপুরে আশিকের সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তে প্রশাসন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কাপাসিয়ায় বৃক্ষরোপণ ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কালিয়াকৈরে অগ্নিকাণ্ডে  দুটি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই  পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, অপপ্রচারের প্রতিবাদে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন শ্রীপুরে রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ, বৃদ্ধকে হুমকি রেজিস্টারে কম, গুদামে বেশি সার: কালীগঞ্জে দুই ব্যবসায়ীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা কালিয়াকৈরে জয় বাংলা স্রোগান দিয়ে  ঝটিকা  মিছিল  শ্রীপুরে বনভূমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ অস্বীকার, তথ্য-রেকর্ড যাচাই করেই দলিল সম্পাদন করা হয়েছে মাছের উৎপাদন বাড়লেই শক্ত হবে অর্থনীতি, জলাশয় রক্ষার আহ্বান

শ্রীপুরে বনভূমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ অস্বীকার, তথ্য-রেকর্ড যাচাই করেই দলিল সম্পাদন করা হয়েছে

Reporter Name / ১৫৬ Time View
Update : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি এবং সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি রেকর্ড যাচাই-বাছাই করেই সংশ্লিষ্ট দলিল সম্পাদন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানা কোনো গেজেটভুক্ত বনভূমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করার সঙ্গে জড়িত নন। দলিল সম্পাদনের আগে দাতা ও গ্রহীতার পরিচয়, মালিকানার কাগজপত্র, দাগ-খতিয়ান, পূর্ববর্তী দলিলসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হয়। তার দায়িত্বকালে বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করার মতো কোনো অনিয়ম ঘটেনি বলেও দাবি করেছেন তারা।

সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী মৌজার সিএস ৫৩ নম্বর দাগের সাড়ে ৩৩ শতাংশ জমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রির অভিযোগ তোলা হয়। প্রতিবেদনে জমিটির ক্রেতা হিসেবে ঢাকার উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর রোডের বাসিন্দা তৌহিদুল আলম মিলকি এবং দাতা হিসেবে ফেনী সদর উপজেলার চাড়িপুর এলাকার শফিকুর রহমানের ছেলে আবদুর রহিম নাহিদের নাম উল্লেখ করা হয়। ৭২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের জমিটির ১২৯৮২/২৫ নম্বর সাফ-কবলা দলিল ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর রেজিস্ট্রি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে সংশ্লিষ্টরা ওই দলিলের তফসিল যাচাই করে দাবি করেছেন, দলিলটিতে উল্লেখ থাকা এসএ দাগ ৫৭০, খতিয়ান ১৮ এবং আরএস দাগ ১০৬৯, খতিয়ান ১৫২-এর সঙ্গে সরকারি গেজেটভুক্ত বন বিভাগের কোনো সম্পত্তির মিল নেই। তাদের দাবি, দলিলটির তফসিলে গেজেটভুক্ত বনভূমির কোনো দাগ বা খতিয়ান অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এটিকে বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমির দলিল বলা সঠিক নয়।

দলিলটির লেখক হিসেবে উত্তর পেলাইদ এলাকার হাদিউল ইসলাম (সনদ নং-১১১)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে সিএস ৫৩ নম্বর দাগের কথা বলা হয়েছে, ওই দাগ অনুযায়ী কোনো দলিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সম্পাদন করা হয়নি। ফলে জেনে-শুনে বনভূমি ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানাকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ নেই বলেও দাবি তাদের।

প্রতিবেদনে ২০১০ সালের ৬৬২৪ নম্বর সাফ-কবলা দলিলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই সময় শ্রীপুরের সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন আনোয়ারুল হক এবং দলিল লেখক ছিলেন হাফিজ উদ্দিন (সনদ নং-২৬৯)। পুরোনো কোনো দলিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে শুধু পরবর্তী দলিলের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে মূল দলিল, বায়া দলিল, সরকারি রেকর্ড, খতিয়ান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলেও তারা উল্লেখ করেন।

এদিকে তৌহিদুল আলম মিলকি ওই এলাকায় গোডাউন নির্মাণ করে ব্যবসায়িকভাবে জমিটি ব্যবহার করছেন—এমন অভিযোগও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে। তবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, কোনো জমিতে স্থাপনা নির্মাণ বা জমির ব্যবহার একটি পৃথক বিষয়। এর সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল সম্পাদনের বৈধতা বা প্রক্রিয়াকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

সংশ্লিষ্টরা আরও দাবি করেন, সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানা কোনো ধরনের ঘুষ, চাপ বা ব্যক্তিগত চুক্তির ভিত্তিতে দলিল সম্পাদন করেন না। আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করেই দলিল সম্পাদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলিলের তফসিল, সিএস-এসএ-আরএস রেকর্ড, খতিয়ান, বন বিভাগের গেজেট এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সংরক্ষিত নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এসব নথি যাচাই করলে গেজেটভুক্ত বনভূমি রেজিস্ট্রির অভিযোগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার সোহেল রানা দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারি বা গেজেটভুক্ত বনভূমি আইনবহির্ভূতভাবে ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভবিষ্যতেও সরকারি সম্পত্তি ও গেজেটভুক্ত বনভূমি রক্ষায় প্রচলিত আইন ও বিধি মেনেই দলিল সম্পাদন করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা