শ্রীপুরে ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস, শিক্ষার পথে দৃষ্টান্ত গড়লেন ইউপি সদস্য আমিনুল
Reporter Name
/ ৩৫
Time View
Update :
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
Share
আশরাফুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: জীবনের ব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব আর জনসেবার নানা কাজের ভিড়েও থেমে থাকেনি তাঁর শিক্ষার প্রতি আগ্রহ। এসএসসি পাসের দীর্ঘ ২৭ বছর পর আবারও হাতে তুলে নিয়েছেন বই-খাতা। বয়সকে হার মানিয়ে পূরণ করেছেন দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন।
অবশেষে ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবারের নির্বাচিত সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম।
শুধু পাস করেই থেমে থাকেননি, এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় জিপিএ ৪ দশমিক ৬৩ অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর এই সাফল্য এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা থেকে মাঝপথে ঝরে পড়া কিংবা বয়সের কারণে পড়াশোনা শুরু করতে দ্বিধায় থাকা মানুষের জন্য হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার নাম।
আমিনুল ইসলামের বাড়ি মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম তুরাব আলী। ১৯৯৯ সালে মাওনা বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি।
এরপর পারিবারিক ও সংসারের দায়িত্বের কারণে নিয়মিত পড়াশোনায় ছেদ পড়ে। জীবিকার তাগিদ ও সময়ের ব্যস্ততায় দীর্ঘদিন আর শিক্ষাজীবনে ফেরা হয়নি।
তবে পড়াশোনা শেষ করার ইচ্ছা কখনো হারিয়ে যায়নি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেকে আরও শিক্ষিত করে গড়ে তোলার তাগিদ অনুভব করেন তিনি।
সেই ইচ্ছা থেকেই ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে গাজীপুরের পুবাইল এলাকার সিটি ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। এরপর সংসার, ব্যক্তিগত কাজ ও জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব সামলে শুরু করেন নতুন করে পড়াশোনা।
দিনের ব্যস্ততা শেষে অবসর সময়ে বই নিয়ে বসতেন তিনি। বয়সের ভার কিংবা দীর্ঘদিনের পড়াশোনার বিরতি কোনো কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। অবশেষে ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ ৪ দশমিক ৬৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে পূরণ হয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
আমিনুল ইসলামের সহকর্মী ইউপি সদস্য শামীম মৃধা বলেন, আমিনুল ইসলাম একজন দায়িত্বশীল মানুষ। জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ বয়সে সময় বের করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর এই অর্জন আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার কোনো বয়স নেই। আমি চাই, যারা বিভিন্ন কারণে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁরা আমার এই অর্জন দেখে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করার সাহস পান। সংসার ও দায়িত্ব সামলেও যে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব, আমি সেটিই প্রমাণ করতে চেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, তাঁর ইচ্ছা এখানেই থেমে থাকার নয়। সুযোগ হলে আগামীতে অনার্সে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে চান।