বেতন ও ঈদের ছুটি নিয়ে শ্রমিক বিক্ষোভ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ, আহত কয়েক শ্রমিক
Reporter Name
/ ৬
Time View
Update :
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
Share
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে বেতন পরিশোধ ও ঈদুল আজহার ছুটি বৃদ্ধির দাবিতে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে কারখানার বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করলে কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকায় অবস্থিত মিতালী গ্রুপের কেএসএস নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চলতি মাসের বেতন দ্রুত পরিশোধ এবং ঈদের ছুটি বাড়ানোর দাবিতে কয়েকদিন ধরেই শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এ নিয়ে বুধবার শ্রমিক প্রতিনিধি ও কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে শ্রমিকরা সেদিন কাজে ফিরে গেলেও বৃহস্পতিবার সকালে কর্মস্থলে এসে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা সংবলিত নোটিশ দেখতে পান।
হঠাৎ কারখানা বন্ধের ঘোষণা শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক কারখানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানার বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কারখানার কিছু স্থাপনা ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। কিন্তু শ্রমিকদের বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
কারখানাটির জেনারেল ম্যানেজার মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের জন্য ২০ দিনের অগ্রিম বেতন এবং ১০ দিনের ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছু শ্রমিক অতিরিক্ত দাবি উত্থাপন করে এবং তা পূরণ না হওয়ায় কারখানায় ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে হঠাৎ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। ঈদের আগে বেতন ও ছুটির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না পাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে সাতটি সাউন্ড গ্রেনেড ও চারটি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কারখানার ক্ষয়ক্ষতি এবং ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানা এলাকা ও আশপাশে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।