মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু বাজার সংলগ্ন উত্তর সোম এলাকায় একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, মরদেহটির মাথা ও মুখমণ্ডলের অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন থাকায় প্রথমে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয় এবং পরিচয় শনাক্তে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে কয়েকজন স্বজন থানায় যোগাযোগ করেন। কিন্তু মরদেহের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তারা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারেননি। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার অলুয়া গ্রামের বাসিন্দা ছাইফুল ইসলাম।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নিহত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকায় নিয়মিত বসবাস করতেন না। ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তিনি খুব বেশি তথ্য কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করতেন না বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। ফলে তার সাম্প্রতিক চলাফেরা ও অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য সংগ্রহে কাজ করছে পুলিশ।
ঘটনাস্থল এবং মরদেহের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তদন্তকারীদের ধারণা, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন এবং মাথার এক পাশ থেঁতলানো থাকায় হত্যার সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনো স্থানে হত্যার পর মরদেহটি ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে।
কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিম শেখ জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে নিহতের সর্বশেষ অবস্থান, যোগাযোগ এবং চলাফেরার তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।