• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ন
Headline
সরকারি রাস্তার ইট তুলে ড্রেন নির্মাণ, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ শ্রীপুর পৌরসভার ৯৩ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা ছয় বিশ্বকাপে ১৮ গোলের নতুন মহাকাব্য রচনা করে ফুটবল বিশ্বকে আবারও মুগ্ধ করলেন ইতিহাসের সর্বকালের সেরা আর্জেন্টাইন জাদুকর মেসি শ্রীপুরে আ.লীগ নেতা আটকের ১৩ ঘণ্টা পর ‘বিএনপি কর্মী’ পরিচয়ে মুক্ত  কাঁঠালভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন: লায়ন গনি মিয়া বাবুল কালীগঞ্জে মাটি ব্যবসায়ীর জরিমানা, ইয়াবাসহ যুবকের জেল বালতির পানিতে আড়াই বছরের আরিশাকে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ, কিশোরীর আত্মসমর্পণ শ্রীপুরে পাঁচটি বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন ভালুকায় ৪০ লিটার চোলাই মদসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সরকারি রাস্তার ইট তুলে ড্রেন নির্মাণ, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

Reporter Name / ৭ Time View
Update : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

আশরাফুল ইসলাম, গাজীপুর প্রতিনিধি:গাজীপুর সদর উপজেলার শিরিরচালা মিনারপাড়া এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য সরকারি রাস্তার ইট তুলে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিনেও রাস্তা পুনর্নির্মাণ না করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ বর্তমানে ভাঙাচোরা, কাদাময় ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পোশাক কারখানার শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফকরুল সরকার নামে এক ব্যক্তি উদ্যোগ নিয়ে রাস্তার ইট তুলে ড্রেন নির্মাণ করেন। ড্রেন নির্মাণ কাজের দায়িত্বে ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক। কাজ শুরুর সময় এলাকাবাসীকে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের আশ্বাস দেওয়া হলেও ড্রেন নির্মাণ শেষ হওয়ার পর আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিরিরচালা মিনারপাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও মাটি দিয়ে চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে যায়। কাদা ও পানির কারণে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্টদের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু রাস্তার বর্তমান অবস্থা যেন জনদুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টির দিনে কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে গিয়ে অনেকেই পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, ড্রেন নির্মাণের প্রয়োজন ছিল, কিন্তু রাস্তা ভেঙে রেখে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ক্রেতারা দোকানে আসতে চায় না। আমাদের ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পোশাক শ্রমিক নাসির উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই কারখানায় যাই। কাদা ও গর্তের কারণে অনেক সময় সময়মতো কাজে পৌঁছাতে পারি না। কয়েকবার পড়ে গিয়ে আহতও হয়েছি।

স্থানীয় বাসিন্দা এমদাদুল হক বলেন, রাস্তাটা আগে ইটের সলিং ছিল। পানি নিষ্কাশনের নামে রাস্তাটি কেটে বেহাল অবস্থা করেছে। রাস্তার কারণে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় গর্ত দেখা যায় না। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।াদদতাছাড়া বৃষ্টির দিনে শিশুদের নিয়ে বের হওয়া যায় না। স্কুলে যাওয়ার সময় সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় উদ্বিগ্ন থাকতে হয়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। স্কুল-কলেজে যেতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী কাদা-পানিতে পড়ে আহত হচ্ছে। বৃষ্টির দিনে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সাহস পান না।

এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থের কথা বিবেচনা না করেই রাস্তা কেটে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ড্রেন নির্মাণ শেষ হওয়ার পর রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা অবিলম্বে সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার পাশাপাশি পুরো বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা রাবিন্দ্র বলেন, সরকারি রাস্তা জনগণের সম্পদ। মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ নষ্ট করে রেখে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত সংস্কার না হলে জনগণের ক্ষোভ আরও বাড়বে।

এদিকে এলাকাবাসী সতর্ক করে জানিয়েছেন, দ্রুত রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়া হলে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তারা আরো বলেন, ড্রেন নির্মাণ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এখন আর কোনো অজুহাত নয়, দ্রুত রাস্তা পুনর্নির্মাণ করে হাজারো মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে হবে।

স্থানীয়দের মতে, উন্নয়নের নামে যদি জনগণের চলাচলের পথই ধ্বংস হয়ে যায় এবং মাসের পর মাস তা সংস্কার না করা হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন সাধারণ মানুষের জন্য আশীর্বাদের বদলে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিরিরচালা মিনারপাড়া সড়কের বর্তমান চিত্র যেন সেই বাস্তবতারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা