শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসেতুর নিচে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসাধারণকে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
‘নিজেকে বাঁচাই, পরিবারকে বাঁচাই, দেশকে বাঁচাই-ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগান সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আহমদ হোসেন ভূঁইয়া ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া।
অভিযানকালে উড়ালসেতুর নিচে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবীরা। একই সঙ্গে বাড়ি, দোকানপাট ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।
বিডি ক্লিন গাজীপুর জেলার সমন্বয়ক সানোয়ার হোসেন বলেন, বিডি ক্লিন সারা দেশে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা উড়ালসেতুর নিচে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে।
শুধু বর্জ্য অপসারণ নয়, মানুষকে নিজের বাড়ি, দোকানপাট ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতেও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সবাই সচেতন হলে ময়লার ভাগাড় তৈরি হওয়া এবং মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারা দেশের মতো শ্রীপুরেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবীরা দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে যেমন ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে, অন্যদিকে মানুষকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সচেতন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও শহরাঞ্চলে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ, ছাদ ও আঙিনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি ফুলের টব, ফুলদানি, ভাঙা বোতল, পুরোনো টায়ারসহ যেসব পাত্রে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। পানির ট্যাংক, ড্রাম ও অন্যান্য পাত্রের মুখ ঢেকে রাখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সম্মিলিত সামাজিক প্রচেষ্টা। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।