আশরাফুল ইসলাম শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রবাসী আব্দুল মালেক দেওয়ানের ৮টি ঘরের চাল খুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদক৫ কারবারী ও সেবনকারী জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। টিনের চাল নিয়েই খান্ত হননি জালাল উদ্দিন। প্রবাসীর ঘর থেকে ভাড়াটিয়াদের নির্যাতন করে বের করে দিয়ে ঘরের ইট পর্যন্ত খুলে নিচ্ছেন। তার এসব অপকর্মের সহযোগীতা করছেন তার মা আনোয়ারা বেগম। মাদক সেবনসহ এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে গেলেও ভয়ে এলাকাবাসী মা-ছেলের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করছে না। তাদের অত্যাচারে স্থানীয় ইউপি সদস্যও অতিষ্ঠ।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল ৩ টায় উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ধলাদিয়া (সাইনবোর্ড) লালটেক গ্রামের প্রবাসী আব্দুল মালেকের ভাড়া দেওয়া বাড়ীতে গেলে এ চিত্র দেখা যায়। ছেলে এবং মায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে রাজি হননি স্থানীয় লোকজন। তাদের অভিযোগ এদের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাদেরও উপরও এসব অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু হবে। ভুক্তভোগী অসহায় প্রবাসীর দাবি থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী প্রবাসী পাশের কাপাসিয়া উপজেলার সূর্য্যনারায়নপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান দেওয়ানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত সৌদি প্রবাসী। অভিযুক্ত মাদক কারবারী ও সেবনকারী জালাল উদ্দিন ধলাদিয়া (সাইনবোর্ড) লালটেক গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে। জালাল উদ্দিন এলাকায় বখাটে, মাদক কারবারী ও সেবনকারী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও চুরির মামলা রয়েছে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী আব্দুল মালেক জানান, মৃত দুলাল মিয়ার স্ত্রী অভিযুক্ত আনোয়ারা বেগম ও তার ছেলে জামাল উদ্দিন এবং জালাল উদ্দিনের কাছ থেকে প্রায় ৩/৪ বছর আগে ৩৩ লাখ টাকায় আড়াই গন্ডা জমি কিনেন। ওই জমিতে তিনি ৮টি টিনশেড ঘর নির্মান করে ভাড়া দেন। তার ৮টি ঘর থেকে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা ভাড়া আসতো। আনোয়ারা বেগম ও তার ছেলে জালাল উদ্দিনের অত্যাচারে ভাড়াটিয়ারা তাদের ঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। পরে অভিযুক্তরা প্রবাসি আব্দুল মালেক দেওয়ানের ৮টি ঘরের চাল খুলে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ঘরের ইটও খুলে নিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, আমরা মা-ছেলের বিরুদ্ধে কথা বললেই আমাদের বাসা-বাড়ীতেও চুরি শুরু করে দিবে।
ভুক্তভোগী প্রবাসী আরো জানায়, এসব ঘটনায় শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মাদক কারবারী ও সেবনকারী জালাল উদ্দিনের অত্যাচারে তিনিসহ স্থানীয়রা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তার এসব অপকর্মে সহযোগীতা করছেন তার মা আনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, আমরা নিরাপত্তা চাই। অভিযুক্ত আনোয়ারা বেগম ও তার ছেলে জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
অভিযুক্ত জালাল উদ্দিনের বাড়ীতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে বন্ধ থাকায় এসব বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল কাদির বলেন, মাদক কারবারী ও সেবনকারী জালাল উদ্দিনের অত্যাচারে আমি নিজেও অতিষ্ঠ। বিগত কয়েক মাস আগে রাতের আঁধারে সে আমার ভাড়া দেওয়া ঘরের স্টিলের গেইট খুলে নিয়ে গেছে। তার অত্যাচারে ভাড়াটিয়ারা থাকতে চায় না। ঘর থেকে ভাড়াটিয়ারা চলে গেলে আমার ৫০টি ঘরের টিনের চাল কেটে ঘরের তার কেটে নিয়ে গেছে।