• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
Headline
সরকারি রাস্তার ইট তুলে ড্রেন নির্মাণ, চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ শ্রীপুর পৌরসভার ৯৩ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা ছয় বিশ্বকাপে ১৮ গোলের নতুন মহাকাব্য রচনা করে ফুটবল বিশ্বকে আবারও মুগ্ধ করলেন ইতিহাসের সর্বকালের সেরা আর্জেন্টাইন জাদুকর মেসি শ্রীপুরে আ.লীগ নেতা আটকের ১৩ ঘণ্টা পর ‘বিএনপি কর্মী’ পরিচয়ে মুক্ত  কাঁঠালভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন: লায়ন গনি মিয়া বাবুল কালীগঞ্জে মাটি ব্যবসায়ীর জরিমানা, ইয়াবাসহ যুবকের জেল বালতির পানিতে আড়াই বছরের আরিশাকে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ, কিশোরীর আত্মসমর্পণ শ্রীপুরে পাঁচটি বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন ভালুকায় ৪০ লিটার চোলাই মদসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সওজের জমি দখল করে মহাসড়কে পাঁচ বাজার, ইজারাদারদের উচ্ছেদ নোটিশ

Reporter Name / ৫৬ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের শ্রীপুর অংশজুড়ে বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে একের পর এক অবৈধ বাজার। কোথাও সবজির স্তূপ, কোথাও মাছ-মাংসের দোকান, আবার কোথাও ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে মহাসড়কের মূল চেহারাই হারিয়ে গেছে। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীদের চলাচল করতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে, আর যানবাহনের লেন পরিণত হয়েছে অস্থায়ী বাজারে।
সদর উপজেলার বাঘের বাজার থেকে শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার মহাসড়কজুড়ে বসেছে অন্তত পাঁচটি বড় বাজার। এগুলো হলো গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি বাজার, এমসি বাজার, নয়নপুর বাজার, জৈনা বাজার এবং সদর উপজেলার বাঘের বাজার।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারগুলোর নামে সরকারি কোনো নির্ধারিত জমি না থাকলেও প্রতি বছর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হচ্ছে। আর সেই ইজারার আড়ালে সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে হাজারো দোকানপাট।
এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার (১২ মে) বাজারগুলো সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের নোটিশ দিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। গাজীপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদের স্বাক্ষরে পৃথকভাবে পাঁচ বাজারের ইজারাদারদের কাছে এ নোটিশ পাঠানো হয়।
সরেজমিনে বাঘের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারটি মহাসড়কের ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের চলাচলের লেন পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে যানবাহনকে ধীরগতিতে এক লেন দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিকেলের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
স্থানীয়দের মতে, এই বাজারগুলোর কারণেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওই অংশে প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন গাজীপুর সাফারি পার্কগামী দর্শনার্থীরা। পার্কের প্রবেশমুখের কাছেই বাজারের দখলে সংকুচিত হয়ে পড়েছে সড়ক। শুধু যানজটই নয়, পথচারীদের জন্যও তৈরি হয়েছে চরম ঝুঁকি। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় মানুষকে বাধ্য হয়ে মহাসড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। একটি ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও অধিকাংশ মানুষ তা ব্যবহার করেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা আয়নাল হক বলেন, বাজারের কোনো নিজস্ব জমি নেই, তাহলে কীভাবে এ বাজারের নামে ইজারা দেওয়া হয়, সেটাই বড় প্রশ্ন।
জৈনা বাজার এলাকার বাসিন্দা আলমাস হোসেন বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের ওপর হাজার হাজার দোকান বসে থাকে এটা কীভাবে সম্ভব? বিশেষ করে কাঁঠালের মৌসুমে বাঘের বাজার থেকে জৈনা বাজার যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জৈনা বাজার দেশের অন্যতম বৃহৎ কাঁঠালের বাজার। মৌসুমে শত শত ট্রাক ও পিকআপ মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে কেনাবেচা করায় ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বাঘের বাজারের ইজারাদার ইউনুস আলী মিয়া বলেন, বাজার বসানোর নির্ধারিত কোনো জায়গা নেই। তবুও প্রতি বছর ইজারা দেওয়া হয়। এ বছর আমি ৪৯ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছি। বাধ্য হয়েই সওজের জায়গায় বাজার বসাতে হচ্ছে।
জৈনা বাজারের ইজারাদার রাসেল আহমেদ বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই বাজার ইজারা নিয়েছি। ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় ইজারা নেওয়া হয়েছে। এটা নতুন কিছু নয়, যুগ যুগ ধরেই এভাবে বাজার চলছে।
তবে সড়ক ও জনপদ বিভাগ বলছে, মহাসড়কের জায়গা দখল করে বাজার বসানো সম্পূর্ণ অবৈধ। সওজ গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, পাঁচটি বাজারের ইজারাদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে বাজার অপসারণ না করা হলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, আমি যোগদানের আগেই বাজারগুলোর ইজারা দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা