এক লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে ওসি আফতাব প্রত্যাহার
Reporter Name
/ ১৯
Time View
Update :
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
Share
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরে এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া এক লাখ ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার রাত ৯টার দিকে তাঁকে থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক, প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ওসি আফতাব উদ্দিনকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে ‘১ লাখ ইয়াবা গায়েবে ওসির হাত’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে,
জানা যায়, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল এক লাখ ইয়াবার একটি চালান। নগরের বাকলিয়া এলাকায় ওই চালান বহনকারী এক পুলিশ সদস্যকে আটক করা হলেও আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে ইয়াবাগুলো আত্মসাৎ করা হয় এবং বহনকারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সময় কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ওসি আফতাব উদ্দিনের নির্দেশেই উদ্ধার করা ইয়াবার চালান জব্দ না করে আত্মসাৎ করা হয়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে আফতাব উদ্দিন বলেন, ইয়াবার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি কোনো ইয়াবা আত্মসাৎ করিনি। ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম।
তদন্তে জানা যায়, কক্সবাজার জেলা আদালতের এক বিচারকের গানম্যান কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন এক লাখ ইয়াবাভর্তি লাগেজ নিয়ে ঢাকাগামী বাসে চট্টগ্রামে আসছিলেন। কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু অতিক্রম করার পর বাকলিয়া থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁকে আটক করেন। পরে লাগেজে ইয়াবা পাওয়ার পরও নিয়মিত মামলা না করে চালানটি নিজেদের দখলে নেন এবং ইমতিয়াজকে ছেড়ে দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে এ ঘটনায় বাকলিয়া থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ, এসআই আল-আমিন সরকার, এসআই আমির হোসেন, এএসআই সাদ্দাম হোসেনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেনকে আগেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সর্বশেষ গত ৯ জুন সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদকে।
গত ২৯ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হলেও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওসি আফতাব উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি নিয়মিত মামলা দায়ের, আত্মসাৎ হওয়া ইয়াবা উদ্ধার, ইয়াবা সরবরাহকারী মোশাররফকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার সুপারিশ করেছে। তবে ঘটনার ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি এবং উদ্ধার হয়নি আত্মসাৎ হওয়া বিপুল পরিমাণ ইয়াবা।