প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শ্রমিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় , সকাল ৯ টার দিকে শ্রমিকরা পানি পান করলে। পানি খাওয়ার মাত্র ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই প্রথমে কয়েকজন বমি করতে থাকেন। এরপর আরো শ্রমিক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কাতরাতে থাকেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ অ্যাম্বুলেন্স,পিকআপ ও প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে অসুস্থ শ্রমিকদের দ্রুত কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আশপাশের ক্লিনিক ও গাজীপুর সদর হাসপাতালে পাঠান। খবর পেয়ে শ্রমিকদের স্বজনরাও হাসপাতালে ভিড় করেন।
আহত শ্রমিকরা বলেন,পানিটা খেতেই কেমন পচা গন্ধ লাগল। ৫ মিনিট পর পেটের ভিতর মোচড় দিয়ে ব্যথা শুরু হলো। বমি করতে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলাম। এখনও শরীরে শক্তি পাচ্ছি না। কয়েকদিন ধরেই পানির স্বাদ নষ্ট ছিল। ম্যানেজমেন্টকে বলেও লাভ হয়নি। আজ এত বড় বিপদ হয়ে গেল।
ড্রেসম্যান পোশাক কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার কাজী শফিক বলেন,কারখানার আশেপাশের এলাকায় শ্রমিকরা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকত। তারা আজ সকালবেলা কী ধরনের পানি ও খাবার খেয়েছে আমার জানা নেই। আমাদের কারখানার ডিপ টিউবওয়েল ও ফিল্টারের পানি নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সহকারী অধ্যাপক (সার্জারী), ইনসিটু, ডা: মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে বেশকিছু শ্রমিক বমি, পেটব্যথা ও মাথাঘুরা নিয়ে হাসপাতালে সেছেন। উপসর্গ দেখে প্রাথমিকভাবে ফুড পয়জনিং বা দূষিত পানিবাহিত রোগ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবাইকে স্যালাইন, এন্টিবায়োটিক ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।কিছু শ্রমিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ৩০-৪০ জনকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।কয়েকজন কে রেফার্ড করে গাজীপুর শহীদ তাইজুদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, কারখানাটি পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।