শ্রীপুরে দেবে গেছে ৩৮ বছরের পুরোনো সেতু, দুর্ভোগে কয়েক গ্রামের মানুষ, নতুন সেতু নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর
Reporter Name
/ ১১
Time View
Update :
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
Share
আশরাফুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের পটকা গ্রামে সেরার খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৩৮ বছরের পুরোনো সেতুর নিচের অংশ দেবে যাওয়ায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল। এতে পটকা, বাউনি ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, পটকা থেকে বাউনি বাজার অভিমুখী বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির প্রধান সড়কের ওপর অবস্থিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। অবশেষে গত ১৬ জুন সেতুর নিচের একটি বড় অংশ দেবে যায় এবং কয়েকটি বড় ফাটল দেখা দে। ফলে সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা চলাচল বন্ধ করে দেন।
পটকা গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান বলেন, সেতুটি অনেক দিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন নিচের অংশ দেবে যাওয়ায় মানুষ আর পারাপার করতে পারছে না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাজেদুল করিম বলেন, এটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক। সেতু বন্ধ থাকায় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থী কবির হোসেন বলে, প্রতিদিন এই সেতু দিয়েই স্কুলে যাতায়াত করতাম। এখন সেতু দেবে যাওয়ায় অনেক দূরের রাস্তা ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় বেশি লাগছে এবং ভোগান্তি বাড়ছে।
অটোরিকশা চালক আব্দুর রশিদ বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাত্রী পরিবহন করতাম। সেতু দেবে যাওয়ার পর থেকে আর চলাচল করতে পারছি না। আয়-রোজগার কমে গেছে, যাত্রীদেরও অনেক ঘুরে যেতে হচ্ছে।
পিকআপচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, এটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সেতুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও খরচ হচ্ছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।
গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরুক আহমেদ বলেন, অনেক দিন ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন নিচের অংশ দেবে গেছে এবং ফাটল দেখা দিয়েছে।এতে করে যানবাহন ও মানুষ পারাপার বন্ধ রয়েছে । বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়কে জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘব ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণ করা হোক।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, সেতুর নিচের অংশ দেবে যাওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।