• শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন
Headline
মাদকমুক্ত সমাজের প্রত্যয়ে শ্রীপুরে তারুণ্যের ঐক্য ফাউন্ডেশনের মানববন্ধন কালিয়াকৈরে জাল রাজস্ব স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ২৫ লক্ষ টাকার নকল সিগারেট জব্দ আটক-২ জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গাজীপুরে বিএনপির বিজয় মিছিল শ্রীপুরে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে মধ্যরাতের শ্রদ্ধাঞ্জলি কলমের দামে ২৪ গুণ পার্থক্য, শ্রীপুর পৌরসভার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন  শ্রীপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত- ৫ দুর্নীতি প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ে চালু হলো সততার দোকান শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে র‍্যালি আলোচনা সভা ও সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি সরকারি বরাদ্দের দুই বছর পরও টাকা পায়নি কোনো শিক্ষার্থী, টাকা উত্তোলনের অভিযোগ শ্রীপুর শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে  পার্বত্য চট্টগ্রামে সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে ৪ আগস্ট শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ

ঠিকাদার উধাও, বন্ধ সড়কের কাজ অসমাপ্ত সড়কে ধানগাছ রোপণ করে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

Reporter Name / ১১ Time View
Update : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

আশরাফুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর):গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ নয়নপুর–বরমী আঞ্চলিক সড়কের সংস্কারকাজ নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো অসমাপ্ত।
কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যত উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ বন্ধ থাকায় ক্ষোভ এলাকাবাসীর। এর প্রতিবাদে সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে অসমাপ্ত সড়কের ওপর ধানগাছ রোপণ করে প্রতীকী কর্মসূচি পালন করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নয়নপুর বাজারসংলগ্ন প্রায় ২৬০ মিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে খোঁড়াখুঁড়ি অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রতিদিন কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল।
সরেজমিনে দেখা যায়, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ চলমান থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কাজ শেষ হয়নি।
বিশেষ করে নয়নপুর বাজারের প্রায় ২৬০ মিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ইট, পাথর, রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও কাদা ও জমে থাকা পানি। বৃষ্টি হলেই পুরো অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মোটরসাইকেল, রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি শ্রীপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক। নয়নপুর, বরমী, মাওনা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম এটি। প্রতিদিন কয়েক হাজার শিল্পশ্রমিক এই সড়ক ব্যবহার করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নয়নপুর বাজারের ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন বলেন, বৃষ্টির পর রাস্তা আর গর্ত আলাদা করা যায় না। প্রতিদিন মানুষ পড়ে যাচ্ছে, যানবাহন আটকে যাচ্ছে। এতে ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পল্লী চিকিৎসক শামসুল ইসলাম তারেক বলেন, মাত্র ২৬০ মিটার সড়কের কারণে পুরো এলাকার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সও বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।
কারখানার শ্রমিক রুবেল মিয়া বলেন, প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়ে কাজে যাই। রাস্তার ওপর ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রী ও বড় বড় গর্তের কারণে সব সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে।
অটোরিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন, এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো এখন খুবই কষ্টকর। আয়-রোজগারও অনেক কমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ আগেও অল্পসংখ্যক শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেলেও বর্তমানে কাজ পুরোপুরি বন্ধ। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নয়নপুর বাজার থেকে সিসি ডিবি মোড় পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ বাস্তবায়ন করছে শাম্মী এন্টারপ্রাইজ। প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় ২৬০ মিটার আরসিসি ঢালাই সড়ক নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ হাসান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বর্তমান কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে, যাতে জনদুর্ভোগের দ্রুত অবসান ঘটে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাসে আর আস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিশ্রুতি শুনলেও বাস্তবে কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। তারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করে দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা