• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
Headline
কালিয়াকৈরে আওয়ামীলীগের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শ্রমিক দলের প্রতিবাদ সভা ভালুকায় জমি দখলের অভিযোগ, বাধা দেওয়ায় মা-মেয়েকে মারধর ও শ্লীলতাহানি খাদ্যের অপচয়রোধে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ : লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল কাপাসিয়ায় জ্বরের প্রকোপ, ৭ দিনে ডেঙ্গু শনাক্ত ৭৪ ভালুকায় নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার কালিয়াকৈরে অপকর্ম  বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন  ও প্রতিবাদ সভা  ডিগ্রি ১ম বর্ষের ২৩ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন শ্রীপুরে ৮৮ কেজি গাঁজাসহ তাহমিনা নামে এক নারী গ্রেপ্তার গফরগাঁওয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রবাসীর বাড়িতে লুটপাট, গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ কালিয়াকৈরে ব্যবসায়ী আজিবর  হত্যা মামলার আসামী সাগর গ্রেপ্তার

কলমের দামে ২৪ গুণ পার্থক্য, শ্রীপুর পৌরসভার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন 

Reporter Name / ১১২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬

আশরাফুল ইসলাম, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার স্টেশনারি সামগ্রী কেনাকাটায় কোটেশন ও বিলের দামে বড় ধরনের অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে।
কোটেশনে প্রতি মেটাডোর বলপেনের মূল্য ৫ টাকা উল্লেখ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া বিলে একই কলমের দাম দেখানো হয়েছে ১২০ টাকা। অর্থাৎ কোটেশনের তুলনায় ২৪ গুণ বেশি দামে বিল করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই স্টেশনারি সামগ্রীর ১০টি আইটেম কেনার জন্য কোটেশন আহ্বান করা হয়। ১২ জুলাই কোটেশন খোলা হলে সততা এন্টারপ্রাইজ, সেবা এন্টারপ্রাইজ ও মোরাদ এন্টারপ্রাইজ নামে তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। পরে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে মোরাদ এন্টারপ্রাইজ কার্যাদেশ পায়।
কোটেশন অনুযায়ী ১০০টি মেটাডোর বলপেনের প্রতিটির মূল্য ছিল ৫ টাকা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একই কলমের দাম ১২০ টাকা দেখিয়ে বিল জমা দেয়। এ ছাড়া অফসেট পেপার, পিন রিমুভার, স্ট্যাপলার পিন, পেন্সিল ব্যাটারি, ক্যালকুলেটর, রেজিস্টার খাতা ও পাঞ্চ মেশিনসহ বিভিন্ন স্টেশনারি সামগ্রীর কোটেশনের আনুমানিক মূল্য ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৭৪ টাকা। কিন্তু বিল করা হয় ১ লাখ ২২ হাজার টাকা।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, কোটেশনে অংশ নেওয়া তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সততা এন্টারপ্রাইজের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ নেই।
কার্যাদেশ পাওয়া মোরাদ এন্টারপ্রাইজেরও কোনো মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়নি। শুধু সেবা এন্টারপ্রাইজের একটি মোবাইল নম্বর থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি। এতে কোটেশন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
তাদের অভিযোগ, শ্রীপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মিজানুর রহমানের প্রভাবেই ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানের নামে কোটেশন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে। কোটেশনে নির্ধারিত দামের সঙ্গে মিল না রেখে অধিক মূল্যে বিল তৈরি করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, সব নিয়ম মেনেই কোটেশন করা হয়েছে। বিলে অনিচ্ছাকৃতভাবে কলমের মূল্য বেশি লেখা হয়েছে। তবে মোট ব্যয়ের হিসাবে কোনো
 অসঙ্গতি নেই।
শ্রীপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদ আখতার বলেন, ঠিকাদার প্রদত্ত বিলে কলমের দাম বেশি লেখা হয়েছিল। আমরা যাচাই করে দেখেছি, মোট বিলের পরিমাণ সঠিক রয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, একটি পণ্যের দাম বেশি দেখানো হলেও অন্য কিছু পণ্যের দাম তুলনামূলক কম ধরা হয়েছে। সব মিলিয়ে গড় মূল্য ঠিক আছে। তারপরও প্রয়োজন হলে বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করা হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় কোটেশনে ৫ টাকা দামের একটি পণ্য কীভাবে ১২০ টাকা দামে বিল করা হলো, সেটি কারও নজরে পড়েনি কেন? এমন অসঙ্গতি যদি ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হয়, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব কোথায় ছিল এ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর এখনো মেলেনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা