শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র ধরে শ্বশুরকে ধার দেওয়া ৪৮ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ায় এক গৃহবধূ ও তাঁর স্বামীকে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি এবং বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাঁদের নির্মাণাধীন বসতঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় শ্বশুর, চাচা শ্বশুর ও ননদের জামাতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মোসা. আকলিমা (৩০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় নয় বছর আগে পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র ধরে নিজের বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুর শাহাজাহান মিয়াকে ৪৮ লাখ টাকা ধার দেন আকলিমা। এ সময় তিন বছরের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন শাহাজাহান। নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত দিতে না পারলে সমপরিমাণ মূল্যের জমি লিখে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। তবে তিন বছর পার হলেও পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন আকলিমা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি আকলিমা জানতে পারেন, তাঁর শ্বশুর অন্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বসতঘরসহ বাড়ির জমি গোপনে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন। এমনকি জমি বিক্রির বায়না বাবদ টাকাও নিয়েছেন বলে জানতে পারেন তিনি।
বিষয়টি জানার পর গত ৩ নভেম্বর সকাল ১০টার দিকে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরের কাছে পাওনা টাকা ও জমি বিক্রির বিষয়ে জানতে চান আকলিমা। এতে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁদের বসতঘরের বিদ্যুতের মিটার খুলে নিয়ে যান এবং পানির সংযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় পাওনা ৪৮ লাখ টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তাঁরা আকলিমা ও তাঁর স্বামীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মারধর করেন। এতে দুজনই আহত হন। পরে স্বজনরা তাঁদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আকলিমার অভিযোগ, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের ভয় দেখান। তাঁদের নির্মাণাধীন বসতঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়ায় বর্তমানে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ঘটনায় আকলিমা শ্রীপুর মডেল থানায় শাহাজাহান মিয়া, মোজাম্মেল হক ও রুহুল মাহফুজসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।