সরেজমিনে দেখা যায় সোমবার (২৫ মে) পৌরসভার সামনে সকাল থেকে শুরু হওয়া এই লাইনে নারী, বৃদ্ধ, দিনমজুর, রিকশাচালকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।পরে পৌনে ১১টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি। কিন্তু বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই অনেকেই ছাতা ছাড়াই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন শুধু কিছুটা কম দামে তেল, চাল, ডাল, চিনি কেনার আশায়। অনেকের গায়ে ভেজা কাপড়, মাথায় বাজারের ব্যাগ, চোখেমুখে ছিল ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার ছাপ।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা জমিলা খাতুন নামে এক নারী বলেন,সকাল ৭ টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি। বৃষ্টি হইলেও যাই নাই। বাজারে যে দামে জিনিস, গরিব মানুষ কেমনে কিনবো? টিসিবির মাল না পাইলে সংসার চালানো মুশকিল।
আরেক দিনমজুর গিয়াসউদ্দিন বলেন,সারাদিন কাজ করলে যা আয় হয়, তার অর্ধেক চলে যায় বাজারে। তাই কাজ বাদ দিয়াই বৃষ্টিতে ভিজে লাইনে দাঁড়াইছি। কিন্তু এত মানুষ, শেষ পর্যন্ত মাল পাই কিনা তাও জানি না এজন্যই লাইন ছাড়িনি ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় টিসিবির পণ্যের সরবরাহ অনেক কম। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। আবার লাইনে শৃঙ্খলা নিয়েও মাঝে মাঝে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হচ্ছে।
সচেতন মহল বলছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ এখন টিসিবির পণ্যের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। অথচ পর্যাপ্ত বিক্রয়কেন্দ্র ও সরবরাহ না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে কোনো শেড বা বসার ব্যবস্থা না থাকায় নারী ও বৃদ্ধদের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন,আগে টিসিবির লাইনে শুধু নিম্ন আয়ের মানুষ দেখা যেত। এখন মধ্যবিত্তরাও দাঁড়াচ্ছে। এটা দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র।
টিসিবির কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পণ্য বিতরণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।