নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ সময়ের দাবি: লায়ন গনি মিয়া বাবুল
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে স্কেল প্রণয়নের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়, শিক্ষা খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান বেতন কাঠামো অনেক সরকারি চাকরিজীবীর জন্য বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য হারিয়েছে। এ অবস্থায় নতুন পে স্কেল প্রবর্তনের উদ্যোগ সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান শক্তি হলো দক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রশাসন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি। তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি পায়, সেবার মান উন্নত হয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়। একজন আর্থিকভাবে স্বস্তিতে থাকা কর্মচারী জনগণকে আরও দক্ষ ও আন্তরিকভাবে সেবা দিতে সক্ষম হন।
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারে মেধাবী তরুণদের সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে যুগোপযোগী বেতন কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সরকারি চাকরিতেও উপযুক্ত আর্থিক প্রণোদনা থাকতে হবে। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে দক্ষ ও মেধাবী জনবল সরকারি চাকরিতে আগ্রহী হবে এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মধ্যেও নতুন কর্মউদ্দীপনা সৃষ্টি হবে।
নতুন পে স্কেল ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়; এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের নিশ্চয়তা দিতে হবে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ খাতে পৃথক ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ ছাড়া বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে। তাই বাজেট প্রণয়নের সময় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নতুন পে স্কেলের সুবিধা শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রশাসনিক সেবার গুণগত মান উন্নত হলে সাধারণ মানুষও দ্রুত, কার্যকর ও মানসম্মত সেবা পাবেন। ফলে রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নবম পে স্কেল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়ন। সরকার যদি বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন পে স্কেল কার্যকর করতে পারে, তবে তা প্রশাসনে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।
— লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল,শিক্ষক, কবি, কলাম লেখক, সমাজসেবক ও সংগঠক