ছোট ছোট হলুদ রঙের অসংখ্য ফুলে ছেয়ে গেছে রেলপথের আশপাশের এলাকা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় প্রকৃতি নিজ হাতে বিছিয়ে দিয়েছে সোনালি গালিচা।
শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে শুরু করে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন চোখে পড়ে বনগাঁদার অপরূপ সমারোহ। বর্ষার আর্দ্রতা আর মাটির উর্বরতায় বেড়ে ওঠা এই বুনো ফুলগুলো প্রতিদিন মুগ্ধ করছে যাত্রী, পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের। ট্রেনে করে শ্রীপুরে প্রবেশের সময় যেন হাজারো বনগাঁদা ফুল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আগত অতিথিদের স্বাগত জানায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বনগাঁদা ফুটলেও এবার ফুলের বিস্তার ও সৌন্দর্য তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। হলুদ ফুলের উজ্জ্বল আভা চারপাশের পরিবেশকে করে তুলেছে আরও প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়। বিশেষ করে বিকেলের কোমল আলোয় ফুলগুলোর সৌন্দর্য যেন আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। এ দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী, ও আলোকচিত্রপ্রেমীরা।
প্রকৃতিপ্রেমী জুবায়ের আহমেদ বলেন, প্রতিদিন এই পথ দিয়ে যাতায়াত করি। রেললাইনের পাশে ফুটে থাকা বনগাঁদা ফুলগুলো দেখলে মনটা ভরে যায়। মনে হয় প্রকৃতি নিজেই আমাদের জন্য সৌন্দর্যের আয়োজন করেছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, স্কুলে যাওয়ার পথে প্রতিদিন এই ফুলগুলো দেখি। খুব ভালো লাগে। অনেক সময় ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করি।
পরিবেশবিদদের মতে, বনগাঁদার মতো বুনো ফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, বরং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মৌমাছি, প্রজাপতি ও বিভিন্ন পরাগবাহী পোকামাকড়ের জন্য এসব ফুল খাদ্যের অন্যতম উৎস। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এদের অবদান রয়েছে।
শ্রীপুরের প্রবীণ বাসিন্দারা এম এ মতিন জানান, একসময় গ্রামবাংলার পথঘাট, মাঠ ও রেললাইনের ধারে এমন বুনো ফুলের সমারোহ ছিল খুবই পরিচিত দৃশ্য। নগরায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে দেশের অনেক এলাকা থেকে এসব ফুল হারিয়ে গেলেও শ্রীপুরের কিছু অঞ্চলে এখনো টিকে আছে প্রকৃতির এই স্বতঃস্ফূর্ত সৌন্দর্য।
বর্ষার মেঘ, সবুজের সমারোহ আর তার মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সোনালি বনগাঁদা,সব মিলিয়ে শ্রীপুরের রেলপথ যেন এখন এক জীবন্ত প্রকৃতির ক্যানভাস।