বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বাহাদুরশাদী ইউনিয়নের খলাপাড়া এলাকার এবিএল গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত হবি সিকদার উপজেলার মধ্য খলাপাড়া গ্রামের মৃত তালেব আলী সিকদারের ছেলে। আহতরা হলেন খলাপাড়া গ্রামের নজরুল মোল্লার ছেলে সজিব মোল্লা (২৮) এবং একই গ্রামের ফজলুর রহমানের মেয়ে জেসমিন বেগম (৩০)। আটক ইকবাল সিকদার একই এলাকার রিপন সিকদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাই ভাই ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ এবং সিকদার ওয়ার্কশপের মালিকদের মধ্যে মেশিনের ফর্মা তৈরি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি ভাই ভাই ওয়ার্কশপের মালিক সজিব মোল্লাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলের পাশে থাকা তার ফুপা হবি সিকদার এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে হবি সিকদারকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সজিব মোল্লাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. শহিদুল ইসলাম জানান, রাত পৌনে ৯টার দিকে হবি সিকদারকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এছাড়া সজিব মোল্লা ও জেসমিন বেগম নামে আরও দুইজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। জেসমিনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। তবে সজিবের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, এবিএল গেট এলাকায় দুই ওয়ার্কশপ মালিকের মধ্যে মেশিনের ফর্মা তৈরিকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।