শ্রীপুরে উদ্ধার মদের বোতল নিয়ে রহস্য, ৪২ না ২৫ সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা
রিপোটারের নাম
/ ১০
বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় :
বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ
আশরাফুল ইসলাম শ্রীপুর ( গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্ত থেকে উদ্ধার হওয়া বিদেশি ব্র্যান্ডের মদের বোতলের সংখ্যা নিয়ে স্থানীয় জনতা ও পুলিশের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জনতার দাবি ৪২ বোতল উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলেও পুলিশ বলছে, তারা পেয়েছে মাত্র ২৫ বোতল।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের দক্ষিণ বারতোপা (গোড়ান পাড়া) গ্রামের পোস্টমাস্টার জালাল উদ্দীনের বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্ত থেকে এসব মদের বোতল উদ্ধার করা হয়।
এ সময় অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী দুলাল (২৫) ও রাজীব (৩২) ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে নজরদারিতে রেখেছিলেন স্থানীয়রা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে তারা জানতে পারেন, একটি বড় চালান আনা হচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে টয়লেটের গর্ত থেকে ৪২ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা ৪২ বোতল মদ উদ্ধার করে পুলিশকে বুঝিয়ে দিয়েছি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এসআই মিজানুর রহমানের সামনেই মদের বোতলগুলো গণনা করা হয়। এর মধ্যে ৩২ বোতল দৃশ্যমান ছিল এবং বাকি ১০ বোতল একটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা ছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, মদ উদ্ধারের পুরো প্রক্রিয়া এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তরের একটি লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রীপুর থানাধীন চকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয় জনতা আমাকে মাত্র ২৫ বোতল মদ হস্তান্তর করেছে। এর বেশি কোনো বোতল আমি পাইনি।
বাকি বোতলগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, তবে বোতলের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নমত সম্পর্কে অবগত নই। বিষয়টি জানতে সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। উদ্ধার হওয়া মদের বোতল এখনও থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে জমা হয়নি। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বোতলের সংখ্যা নিয়ে কোনো অনিয়ম বা গরমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।