
অভিযুক্তরা হলো একই এলাকার ফজলু রহমানের ছেলে এবং শ্রীপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি এহসানুল হক রাসেল (২৭), সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন (৩৫) এবং মৃত হাতেম আলীর ছেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী আমান মন্ডল (২৬)।
ভুক্তভোগী শামসুদ্দিন থানায় লিখিত এজাহারে উল্লেখ করেন, শারিরীক অসুস্থতার কারণে তিনি প্রায় দেড় মাস যাবত দোকান বন্ধ রেখে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রবিবার (১৫ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে অভিযুক্তরা তার দোকানের বেড়া খুলে প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল (জুতা) লুটে নেয়। ওইসব মালামাল তারা কেওয়া বাজারেই জাকিয়া জান্নাত সু-গ্যালারীর মালিক এনামুল সরকারের কাছে ৬০ জোড়া জুতা ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করে। তিনি আরো বলেন, অভিযুক্তদের ভয়ে আমি স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে পারি না। তাদের হুমকির কারণে আমি দোকানে যেতে পারি না।
জাকিয়া জান্নাত সু-গ্যালারীর মালিক এনামুল সরকার জুতা কেনার কথা স্বীকার করেন বলেন, রাসেল এবং ইসমাইল হোসেন আগেই আমাকে জানায় তারা কয়েক জোড়া জুতা বিক্রি করবে। আমি যেহেতু জুতার ব্যবসা করি তাই তাদের প্রস্তাবে জুতা কেনার জন্য রাজি হই। পরে তারা আমার দোকানে ৬০ জোড়া জুতা নিয়ে আসে। তাদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা দরে ৬০ জোড়া জুতা ৯ হাজার টাকায় কিনে রাখি। জুতাগুলো এখনো আমার দোকানে আলাদাভাবে রাখা আছে।
শ্রীপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি অভিযুক্ত এহসানুল হক রাসেল বলেন, আমি জুতা ব্যবসায়ী শামসুদ্দিনের কাছে টাকা পাব। সে আমার পাওনা টাকা না দিয়ে দুই-তিন মাস যাবত দোকান বন্ধ করে রেখেছে। আমার সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগও করছে না। পরে আমি তার দোকান থেকে জুতা বের করে কেওয়া বাজারের জাকিয়া জান্নাত সু-গ্যালারীর মালিক মোহাম্মদ এনামুলের কাছে ৬০ জোড়া জুতা ৯ হাজার টাকায় বিক্রি করি।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক ডা: মুজাহিদুল কবির বলেন, এরকম একটি ঘটনা আমি শুনেছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা পৌর কৃষক দলের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাদের বিষয়ে পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক শাজাহানের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন এবং তিনি ভালো বলতে পারবেন বলে জানান।
শ্রীপুর পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক শাজাহান বলেন, আমি আপনার (সাংবাদিকের কাছে) মাধ্যমে এই মাত্র বিষয়টি শুনলাম। আমি আগে পরে কিছুই জানিনা। তবে যেহেতু বিষয়টি জানতে পারলাম আমি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানবো।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।