• মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শ্রীপুর উপজেলা শাখার সেক্রেটারির দায়িত্ব পেলেন আবুল কালাম আজাদ শ্রীপুরে আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঢেউটিন দিলেন জামায়াতে ইসলামী ভালুকায় হাইওয়ে পুলিশের হাতে ৯০ বোতল ভারতীয় মত ও প্রাইভেটকারসহ একজন আটক শ্রীপুরে মাদ্রাসা থেকে টিফিনের সময় ছাত্রী অপহরণের অভিযোগ শ্রীপুরে এসএসসি – দাখিল পরীক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রশিবিরের ফ্রি হেল্প ডেস্ক শ্রীপুরে প্রাইভেটকারে তুলে যাত্রীকে অপহরণ, টাকা ছিনতাই ফেইক ফেসবুক আইডিতে অপপ্রচার, শ্রীপুরে শ্রমিকদল নেতার জিডি শ্রীপুরে কভার্ড ভ্যানের চাপায় স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু শ্রীপুরে বনভূমির গেজেট জটিলতা নিরসনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন   শ্রীপুরে মাদ্রাসাছাত্রীকে দুই দফা অপহরণ, উদ্ধার করেছে পুলিশ মূল আসামী পলাতক

চলতি জুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহে গাছ থেকে হাড়িভাঙ্গা আম পাড়া শুরু হবে

রিপোটারের নাম / ৬৭০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০

রংপুর প্রতিনিধিঃ  আমের নাম হাড়িভাঙ্গা। রংপুরের শত শত মানুষ এ আম চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সুস্বাদের কারণে সারাদেশেই আমটি জনপ্রিয়। হাড়িভাঙ্গার জন্যই রংপুর আমের দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে খ্যাত। আমটি দেখতে কিছুটা লম্বাটে, গোলাকৃতির ও কালচে সবুজ রংয়ের। পাকলে কিছুটা লালচে রং ধারণ করে। হাড়িভাঙ্গা আম সুগন্ধী, অতি সুমিষ্ট ও আঁশহীন। এ জাতটির বিশেষ একটি গুণ হচ্ছে- পুষ্ট আম বেশি দিন অটুট থাকে। চামড়া কুচকে যায়, তবে পঁচে না। হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করে এবার ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা করতে পারবেন আমচাষিরা। চলতি জুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহে গাছ থেকে হাড়িভাঙ্গা আম পাড়া শুরু হবে। বাজারেও পাওয়া যাবে রংপুরের জনপ্রিয় ও সুস্বাদু এ আম।

তবে এবারের করোনা মহামারিকালে হাড়িভাঙ্গা আমের বাণিজ্যিক বাজার নিয়ে চিন্তিত আমচাষিরা। সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারার আশঙ্কা করছেন তারা। এদিকে আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এবার রংপুর অঞ্চলে হাড়িভাঙ্গার ফলন ভালো হয়েছে। সারাদেশে জনপ্রিয়তার তালিকায় থাকা এ আম এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে পরিপক্ক হবে। এ সময় বাগান মালিকরা গাছ থেকে হাড়িভাঙ্গা আম পাড়তে পারবেন। তখন থেকে বাজারজাতও করা যাবে। আবহাওয়া প্রতিকূলে কিংবা প্রচন্ড গরম থাকলে সপ্তাহখানেক আগেও বাণিজ্যিকভাবে বাজারে হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করতে পারবেন আমচাষিরা।

এবার রংপুর অঞ্চলের রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলায়  প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে তিন হাজার হেক্টর জমিতে রয়েছে হাড়িভাঙ্গা আম। এ বছর রংপুরের মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের ফলন হয়েছে। গত বছর প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছিল ৯ দশমিক ৪ মেট্রিক টন। যা এবার ১৫ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারার আশঙ্কা করছেন চাষিরা। এদিকে ফলন ভালো হলেও গত দুই সপ্তাহের ঝড়-বাতাসে আমের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিক থাকলে শুধু হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করে এবার ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা করতে পারবেন এ জেলার আমচাষিরা। বিগত কয়েক বছর ধরে রংপুর অঞ্চলকে সমৃদ্ধির দিকে নেয়া সুস্বাদু, মিষ্টি ও রসালো ফল হাড়িভাঙ্গার কদর এখন দেশের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের অন্যান্য স্থানের আম শেষ হবার পরই রংপুরের বাজারে আসবে এ আম। মৌসুমের শুরুতে হাড়িভাঙ্গার চাহিদা বেশি থাকায় এর দাম কিছুটা বেশি থাকবে। সেক্ষেত্রে প্রতি কেজি হাড়িভাঙ্গা আম ৮০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে পারে। বাজার থেকে হাড়িভাঙ্গা কেনা ছাড়াও বড় বড় বাগান মালিকদের সঙ্গে সরাসরি কিংবা অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করেও আম সরবরাহ করা যাবে।

এদিকে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ করে আসা আব্দুস ছালাম জানান, তিনি এবার ১৪ একর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ করেছেন। বিগত বছর এ সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা অধিকাংশ আমচাষিদের বাগান কিনে নিতেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। ইতোমধ্যে গেল কয়েক দিনের কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে তার বাগানের প্রায় লক্ষাধিক মণ আম নষ্ট হয়ে গেছে।

হাড়িভাঙ্গা আমের সম্প্রসারক হিসেবে পরিচিত মিঠাপুকুরের সফল এ আমচাষি জানান, জুনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে এ আম পরিপক্ক হয়ে ওঠে। তখন এটি বাজারজাত করা যায়। এর মধ্যে আম বিক্রি না হলে গাছেই পচাতে হবে আম।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সারোয়ারুল হক জানান, দেশের অন্যান্য স্থানের আম শেষ হয়ে যাওয়ার পর হাড়িভাঙ্গা আম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। এ আম বাজারে আসবে জুনের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, ইতোমধ্যে বিখ্যাত এ আমের বাজারজাতকরণে কৃষি বিভাগ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বড় বড় চাষিদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করানো হচ্ছে। আমচাষিদের তালিকা করা হয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতির ওপর এবার অনেক কিছু নির্ভর করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ