• মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারান্ড ভালুকায় মাটি কেটে গভীর গর্ত করার অভিযোগ শ্রীপুরে মোবাইল না দেওয়ায় অভিমানে স্কুল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা শ্রীপুরে তালাবদ্ধ ঘর থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক শ্রীপুরে বাজার ইজারা নিয়ে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন কালিয়াকৈর চন্দ্রা ত্রিমোড়ে তাকওয়া পরিবহন, মরণযান ও জ্যাম সৃষ্টির মুল কারণ কাপাসিয়ায় একসঙ্গে ৫ নবজাতকের জন্ম দিলেন মাসুমা আক্তার নামে এক গৃহবধূ শ্রীপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা-লুটপাট, শিশুসহ আহত ৫ গাজীপুরে পুত্রবধূর পরিকল্পনায় শাশুড়ি হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার- ৩ আদালতে স্বীকারোক্তি কালীগঞ্জে দুই তিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা ও অলিম্পিয়াডের সমাপ্তি

শিশু শিক্ষার্থীকে বস্তায় ভরে রোদে ফেলে রাখার অভিযোগ মাদরাসা প্রধানের বিরুদ্ধে

রিপোটারের নাম / ৪০৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫

তৈয়বুর রহমান (কালীগঞ্জ) গাজীপুর:গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১০ বছরের এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে বস্তায় পুরে রেলিংবিহীন ছাদে ফেলে রাখার মর্মান্তিক ও অমানবিক এক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে মাদরাসার গেট তালাবদ্ধ করে রাখা হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তীব্র রোদের মধ্যে শিশুটিকে চটের বস্তায় আটকে রাখার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয়রা।

 

ভুক্তভোগী আবু বকর সিদ্দিকী (১০) কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদী দাওদাপাড়া গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় ফুলদী নূরে মদিনা হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী।

 

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২৮ জুন) সকালে। পরে উদ্ধারের পর দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলাউদ্দিন।

 

অভিযুক্ত হাফেজ মাওলানা মুফতি জাকারিয়া (২৯) একই উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের সাওরাইদ এলাকার বাসিন্দা এবং মাদরাসাটির প্রধান শিক্ষক।

 

স্থানীয়রা জানান, সকালে কোনো এক কারণে আবু বকরকে পিটায় শিক্ষক জাকারিয়া। পরে সে কান্নাকাটি শুরু করলে এবং পরিবারের কাছে বলে দেওয়ার হুমকি দিলে শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে একটি চটের বস্তায় শিশুটির শরীর আটকে মাথা বাহিরে রেখে দোতলা মাদরাসা ভবনের রেলিংবিহীন ছাদে ফেলে রাখা হয়। এ সময় তাকে যাতে কেউ খুঁজে না পায়, এজন্য মাদরাসার গেট বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়।

 

তারা আরো জানান, বন্দি অবস্থায় বস্তায় প্রস্রাব ও পায়খানা করে শিশুটি। দীর্ঘসময় পর মাদরাসার এক সহপাঠী গোপনে জানালা দিয়ে বের হয়ে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর আশপাশের মানুষ জড়ো হন এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

 

তারা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক আগেও শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার জন্য পরিচিত ছিলেন, তবে এতটা নির্মম আচরণ এবারই প্রথম চোখে পড়ে।

 

শিশুটির বাবা মোশারফ হোসেন বলেন, “এটা কোনও শিক্ষকের কাজ হতে পারে? আমার ছেলে ছোট, কোনো ভুল করলেও এভাবে নির্যাতনের অধিকার কারো নেই। আমি থানায় অভিযোগ করেছি, মামলা করবো। আমি আমার সন্তানের ওপর নির্যাতনের বিচার চাই।”

 

কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে তার দাবি, শিশুটিকে পুরোপুরি বস্তার মধ্যে না রেখে মাথা বাইরে রাখা হয়েছিল, যেন সে পালাতে না পারে।”

 

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ